Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে খুন করা হয়েছিল বধূকে, শ্বশুর-শাশুড়ি-ননদের যাবজ্জীবন

পুত্রবধূকে খুনে দোষী সাব্যস্ত শ্বশুর, শাশুড়ি এবং ননদ। তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিল বনগাঁ আদালত।

গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে খুন করা হয়েছিল বধূকে, শ্বশুর-শাশুড়ি-ননদের যাবজ্জীবন
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: পুত্রবধূকে খুনে দোষী সাব্যস্ত শ্বশুর, শাশুড়ি এবং ননদ। তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিল বনগাঁ আদালত। শনিবার এডিজে ১ আদালতের বিচারক কল্লোলকুমার দাস এই নির্দেশ দেন। সাজাপ্রাপ্তদের নাম, মলয়চন্দন দত্ত, মধুমিতা দত্ত এবং মৌমিতা দত্ত। এই খুনের মামলায় ২০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। মৃতের স্বামী মৃন্ময়চন্দন দত্তও অভিযুক্ত। তবে তিনি অসুস্থ থাকায় তাঁর বিচারপ্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। 

Advertisement

২০১৩ সালে বনগাঁ থানার মুস্তাফিপাড়ার বাসিন্দা নূপুর দত্ত খুন হন। প্রাণে মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠে বধূর স্বামী সহ শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, শ্বশুরবাড়িতে মারধর করার পর ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল নূপুরদেবীকে। তাঁর ভাই বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। গত ১৮ তারিখ তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। এদিন সাজা ঘোষণা করলেন বিচারক। সরকারপক্ষের আইনজীবী অশোককুমার প্রামাণিক বলেন, ‘আদালত বিচার বিবেচনা করে অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করেছে। দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।’ নূপুরদেবীর ভাই শিবম বণিক বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমরা খুশি। দোষীদের ফাঁসি হলে আরও খুশি হতাম।’
জানা গিয়েছে, ২০০৫ সালের ২৮ নভেম্বর বনগাঁ মুস্তাফিপাড়ার বাসিন্দা মৃন্ময়চন্দন দত্তের সঙ্গে বিবাহ হয়েছিল বারাসতের বাসিন্দা নূপুর দত্তের। অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁর উপর অত্যাচার চালাত স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদ। বাপের বাড়ি থেকে দু’লক্ষ টাকা নিয়ে আসার জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছিল নূপুরদেবীকে। তবে টাকা না পেয়ে শুরু করেছিল মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার। 
২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর অত্যাচার চরমে ওঠে। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে চূড়ান্ত চাপ দেয় শ্বশুরবাড়ির সবাই। নূপুরদেবী টাকা আনতে রাজি না হওয়ায় ঘরের মধ্যে তাঁর চারবছরের ছেলের সামনেই মারধর করে স্বামী সহ অন্যান্যরা। মাকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে ঠাকুরদা ও ঠাকুমার কাছে কাকুতিমিনতি করেছিল বাচ্চাটি। ‘ মাকে মেরো না’, বলে ক্রমাগত কেঁদেছিল। তবে সবকিছু অগ্রাহ্য করে মারধর চালিয়ে যায় তারা। তারপর নূপুরদেবীর গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে। নূপুরদেবীর ভাই ঘটনায় জড়িতদের নামে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তার ১২ বছর পর তিনজন দোষী সাব্যস্ত হল। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাও পেল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ