সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রাখি পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে চৈতন্যধামে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুদিন ধরে কার্যত মিলন উৎসবে পরিণত হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নবদ্বীপের পোড়ামাতলা, ঢপওয়ালির মোড়, রাধাবাজার, প্রতাপনগর সহ বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে রাখির বাজার। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের কর্মীদের রাখি কিনতে দেখা যায়। পাশাপাশি মঠ মন্দির ও গৃহস্থবাড়ির বিগ্রহের জন্য ফুলের রাখিও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।
এবার বাজারে বিশেষ চাহিদা তৈরি হয়েছে ব্রেসলেট, স্টোন ও মেটালের রাখির। ছোটদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে কার্টুন ও লাইটিং রাখি। ‹ছোটা ভিম, ডোরেমন সহ বিভিন্ন কার্টুন চরিত্রের রাখিও নজর কেড়েছে। পাঁচ টাকা থেকে শুরু করে ৪০ টাকা বা তারও বেশি দামের রাখি মিলছে বাজারে। মাজদিয়া বেলডাঙার বাসিন্দা দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী বান্টি দেবনাথ বলে, বাড়ির গোপাল ঠাকুর আর খুড়তুতো ভাই ও বন্ধুদের জন্য রাখি কিনেছি। ছোটদের জন্য কার্টুন এবং বড়দের জন্য ব্রেসলেট, স্টোন ও মেটালের রাখি নিয়েছি। গানতলার বাসিন্দা রাখি বিক্রেতা সুদর্শন রায় বলেন, এবার ১০ থেকে ১৫ টাকা দামের স্টোন ও ব্রেসলেট রাখির বিক্রি বেশি। ছোটদের মধ্যে কার্টুন ও পুঁতির রাখির চাহিদাও রয়েছে। তুলনামূলক বেশি দামের রাখি বিক্রি হচ্ছে। তবে তা সংখ্যায় অনেক কম।পোড়াঘাটের বাসিন্দা ব্যবসায়ী অপু সাহা বলেন, বিভিন্ন কার্টুনের রাখির চাহিদা এবার বেশি। বিক্রিও ভালোই হচ্ছে। আর এক বিক্রেতা সোনা কুন্ডু বলেন, সব ধরনের রাখিরই চাহিদা রয়েছে। তবে ব্রেসলেট ও কার্টুন রাখি এবার বেশি বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রতি বছরই রাখি পূর্ণিমায় ফুলের রাখির চাহিদা থাকে। গোলাপ, রজনীগন্ধা, সূর্যমুখী ও ঝাউপাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে এই রাখি। ফুলের দাম বাড়ায় এবার ফুলের রাখির দামও কিছুটা বেড়েছে। পোড়ামাতলা রোডের ফুল ব্যবসায়ী বাবন দে বলেন, রজনীগন্ধা প্রায় ৪৫০ টাকা কেজি, গোলাপ একশো পিস ৫০০ টাকা এবং ঝাউপাতা ৭০ টাকা বাণ্ডিল দরে বিক্রি হচ্ছে। প্লাস্টিক ফুলের রাখি ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং বিশেষ ধরনের ফুলের রাখি প্রায় ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঝুলন পূর্ণিমার শেষ দিনে বিভিন্ন মঠ মন্দিরে বিগ্রহকে ফুল দিয়ে সাজানোর রীতি থাকায় ফুলের চাহিদাও এই সময় বাড়ে। মেঘলা আকাশ ও মাঝেমধ্যে ঝিরঝির বৃষ্টি থাকলেও নবদ্বীপে রাখির বাজারে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। -নিজস্ব চিত্র