


সংবাদদাতা, কাঁথি: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই জল্পনা চলছিল। সেই জল্পনাই সত্যি হল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজের শহর কাঁথি পুরসভার বোর্ড ভেঙে দিল পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। চেয়ারম্যান পদ থেকে সরলেন রামনগরের প্রাক্তন বিধায়ক অখিল গিরির ছেলে সুপ্রকাশ গিরি। পুরসভার রাশ এবার চলে গেল প্রশাসকের হাতে। প্রশাসক পদে বসছেন কাঁথির মহকুমা শাসক প্রতীক অশোক ধুমল। শুক্রবার বিকালে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে এই মর্মে চিঠি পাঠানো হয় জেলাশাসক ও কাঁথি মহকুমা শাসকের দপ্তরে। আগামী সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যভার গ্রহণ করবেন মহকুমা শাসক। নিয়মমাফিক তাঁকে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন সুপ্রকাশবাবু। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই কাঁথি পুরসভায় রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল। প্রশাসক নিয়োগের ফলে এবার সেই টানাপোড়েনের অবসান হল বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৪মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পুরসভার পরিস্থিতি বদলে যায়। তৃণমূলের কাউন্সিলাররা পুরসভা থেকে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে গত ১২মে পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন বিজেপি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন না। এরপরই তৃণমূলের কাউন্সিলারদের মধ্যে পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয়ে যায়। ২১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টি ওয়ার্ডে তৃণমূলের কাউন্সিলার রয়েছেন। একে একে তৃণমূলের ১৩ জন কাউন্সিলার পদত্যাগ করেন। চেয়ারম্যানও অফিসে আসছিলেন না। ফলে পুরসভায় চূড়ান্ত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। কাউন্সিলারদের অনুপস্থিতিতে পুর-পরিষেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। নাগরিক দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। মহকুমা প্রশাসনের তরফে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে তার রিপোর্ট জমা পড়ে। তারপর কাঁথি পুরসভাকে শো-কজ নোটিস পাঠায় পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। চেয়ারম্যান সহ ১০জন কাউন্সিলার শো-কজের জবাব দেন। তবে জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেনি দপ্তর। শেষমেশ পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করা হল। মহকুমা শাসক বলেন, আগামী সোমবার আমি প্রশাসকের দায়িত্ব নেব। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গণপদত্যাগের জেরে বর্তমান পুরবোর্ড ভেঙে দিল রাজ্য সরকার। নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুপ্রকাশবাবু বলেন, সরকার যেটা ঠিক মনে করেছে, সেটা করেছে। বিজেপির কাউন্সিলার সুশীলকুমার দাস বলেন, মানুষের ভোটে তৃণমূলের কোনো কাউন্সিলার নির্বাচিত হননি। এটা তাঁরাও জানতেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসায় আগেভাগেই তাঁরা পদত্যাগ করেছেন। আমরা নিশ্চিত, এবার শহরে পুর-পরিষেবা সচল হবে।