অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: নির্জন এলাকা। কেউ কোত্থাও নেই। মাঝখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে একটি বিশাল পোড়ো বাড়ি। তার অন্দরে রহস্যের ঘনঘটা। অশরীরি আত্মাদের ঘোরাফেরা...কখনও চিঁ চিঁ আওয়াজ...আবার কখনও নাকে কান্নাকাটি। কাউকে পাশে পেলে নির্মমভাবে হত্যা! বহু ভৌতিক ছবির চিত্রনাট্য হয় ঠিক এমনই। শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, বাড়িটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হল। ‘দ্য কনজিউরিং’, ‘দ্য নানা’, ‘দ্য এক্সরসিস্ট’ কিংবা ‘অ্যানাবেল’-এর মতো হরর ছবির গল্পের সঙ্গে যার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কৃষ্ণনগরের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী খুনের ঘটনায় এমনই নিখুঁত চিত্রনাট্য সাজানোর তথ্য পেলেন তদন্তকারীরা।তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর ভৌতিক সিনেমা দেখার প্রবল নেশা ছিল। প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটি ও ভৌতিক বিষয়ের প্রতি তার বিশেষ আকর্ষণ ছিল। এমনকী একটি ভৌতিক সিনেমা দেখার দর্শকদের গ্রুপে নাম লিখিয়েছিল সে। জানা গিয়েছে, আবাসনে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে সেটি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্তরা। সহপাঠীদের কাছেও একাধিকবার বলেছিল, হস্টেল বন্ধ করেই ছাড়বে। অভিযুক্তের ডায়েরিতেও বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল—‘হস্টেল বন্ধ করে দেব।’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হস্টেলের কড়া নিয়মকানুনে নবম শ্রেণির দুই অভিযুক্ত ছাত্রীর প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে উঠছিল। তারা মনে করেছিল, কোনো একটা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলেই হস্টেলটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ঠিক যেমন ভৌতিক সিনেমা হয়ে থাকে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অতীতেও এক আবাসিকের উপর হামলার চেষ্টা করেছিল তারা। সেই চেষ্টা সফল হয়নি। তদন্তকারীদের মতে, শুক্রবার রাতে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী সঞ্জনাকে টার্গেট করে অভিযুক্তরা।



