নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একটা সময় ভারতীয় ফুটবলের আতুঁড়ঘর হিসেবে দেখা হতো কলকাতা লিগকে। কেরিয়ারের শুরুতে অপ্রধান ক্লাবের জার্সিতে অধিকাংশ ফুটবলারের কাছে ঘরোয়া লিগই ছিল প্রমাণের মঞ্চ। সেই তালিকায় অবশ্যই উপরের দিকে নাম থাকবে প্রশান্ত ব্যানার্জির। ১৯৭৪ সালে কালীঘাটের হয়ে প্রথমবার কলকাতা লিগে নজর কাড়েন এই প্রাক্তন মিডিও। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে দু’বছরের মধ্যেই সই করেন ইস্ট বেঙ্গলে। বাকিটা ইতিহাস। কলকাতার তিন প্রধান, বাংলা, ভারত— প্রতিটি জার্সিতেই আলো ছড়িয়েছেন এই মিডফিল্ড জেনারেল।
কলকাতা লিগের প্রসঙ্গ উঠতেই স্মৃতির সাগরে ডুব দিলেন প্রশান্ত। একইসঙ্গে তাঁর গলায় ঝড়ে পড়ল একরাশ হতাশা। বললেন, ‘আমাদের সময় ঘরোয়া লিগই ছিল নিজেকে প্রমাণের সেরা মঞ্চ। আজও মনে আছে, কালীঘাটের হয়ে দু’বছর ভালো খেলার সুবাদে ১৯৭৬ সালে ইস্ট বেঙ্গলে ডাক পাই। একরাশ প্রত্যাশার মধ্যেই লাল-হলুদ জার্সি গায়ে চাপাই। কারণ সেবারই মোহন বাগানে সই করেন পিন্টু চৌধুরি। মাঝমাঠে ওঁর শূন্যতা পূরণ করাই চ্যালেঞ্জ ছিল আমার কাছে। মনে আছে, প্রথম ম্যাচে পুলিসের বিরুদ্ধে ৬ গোলে জিতেছিলাম আমরা। পরের ম্যাচে স্পোর্টিংকে হারাই ৫ গোলে। তবে কলকাতা লিগে আমায় প্রতিষ্ঠা দেয় সেবারের বড় ম্যাচ। আকবরের করা ১৭ সেকেন্ডের গোলে ম্যাচটা হেরেছিলাম ঠিকই। তবে সেদিন দুর্দান্ত খেলেছিল ইস্ট বেঙ্গল। রেফারির বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য ভুগতে হয় আমাদের। তবে ম্যাচ শেষে লাল-হলুদ সমর্থকরা আমাদের সমালোচনা করেনি। তাঁদের কাঁধে চেপেই ইডেন থেকে ক্লাব তাঁবুতে ফিরি। এই ম্যাচের পর আমাকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি।’
গত কয়েক বছরে অনেকটাই জৌলুসহীন হয়ে পড়েছে কলকাতা লিগ। তিন প্রধান অধিকাংশ ম্যাচ খেলে জেলার মাঠে। ফলে সমর্থকদের মধ্যেও সেই উন্মাদনা নেই। এই প্রসঙ্গে কিছুটা আপশোসের সুরেই প্রশান্ত বললেন, ‘আমাদের সময় গ্যালারি উপচে পড়ত। শুধু বড় দলের ম্যাচ নয়, তথাকথিত অনেক অপ্রধান দলের খেলা দেখতেও মাঠ ভরাতেন সমর্থকরা। এমনকী, এই প্রতিযোগিতার দিকে নজর থাকত তিন প্রধানের রিক্রুটারদের। তবে এখন তো সেসবের বালাই নেই। কলকাতা লিগের ম্যাচ হচ্ছে জেলার মাঠে। ফলে লিগের জনপ্রিয়তাও পড়ছে।’ এরপর কিছুটা উত্তেজনার সুরেই বললেন, ‘আইএসএল আসার পরই কলকাতা লিগ ধ্বংসের দিকে এগতে শুরু করেছে। আমাদের সময় বছরে ৫৫-৬০টা ম্যাচ খেলতে হতো। এখন তো গড়ে ৩০টা ম্যাচও খেলতে হয় না। তারপর রয়েছে এজেন্টের দাপট। তাদের কথাতেই ফুটবলারদের মান নির্ধারিত হয়। অবিলম্বে আইএফএ’র উচিত, কলকাতা লিগকে ময়দানে ফিরিয়ে আনা। তার জন্য প্রয়োজনে আরও আগে ম্যাচ শুরু করুক। তবেই মাঠমুখো হবেন সমর্থকরা।’