Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

কোটি কোটি ব্যয়ে ‘ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর’, সুফল অধরা, ই-স্কুটারের গতিতে ছুটছে মালগাড়ি

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের সুফল আপাতত দূরঅস্ত! ইলেকট্রিক স্কুটার কিংবা ব্যাটারি চালিত অন্যান্য যানের মতোই বেশ ঢিমেতালে চলছে পণ্যবাহী ট্রেন।

কোটি কোটি ব্যয়ে ‘ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর’, সুফল অধরা, ই-স্কুটারের গতিতে ছুটছে মালগাড়ি
  • ৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ঘণ্টায় মাত্র ২৫ কিলোমিটার! বাজারচলতি অধিকাংশ সস্তা ব্যাটারিচালিত স্কুটারের সর্বাধিক গতি এটাই। মূলত সেই কারণে সস্তা ই-স্কুটারগুলি ব্যস্ত রাস্তায় চালাতে কোনও ড্রাইভিং লাইলেন্স লাগে না। মজার বিষয় হল, ভারতীয় রেলের পণ্যবাহী ট্রেনও এই সস্তা ই-স্কুটারের গতিকে ছাপিয়ে যেতে পারছে না। অথচ বুক বাজিয়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (ডিএফসি) নির্মাণের ঢাক পেটানো চলছে। কৃতিত্ব নেওয়ার ব্যাপারে কোনও কসুর রাখছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। কিন্তু সেই হাজার হাজার কোটি টাকার ফ্রেট করিডরের সুফল আপাতত দূরঅস্ত! বরং সেই করিডরের রেললাইন ধরে সস্তা ই-স্কুটারের মতোই বেশ ঢিমেতালে চলছে মালগাড়িগুলি। সম্প্রতি তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনের অধীনে এব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল রেলমন্ত্রককে। জবাবে সরকারিভাবে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাতে সাফ দেখা যাচ্ছে—২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে সারা দেশে মালগাড়ির গড় গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটারের বেশি ওঠেইনি। এই তথ্যকে বিস্ময়কর বলেই মানছে বিশেষজ্ঞ মহল। 

Advertisement

পণ্যবাহী ট্রেনের গতি সংক্রান্ত তথ্য জানতে আরটিআই আইনের অধীনে আবেদন জানিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের সমাজকর্মী চন্দ্রশেখর গৌড়। তারই প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত পরিসংখ্যান পেশ করেছে রেল বোর্ড। জানিয়েছে, ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে দেশে পণ্যবাহী ট্রেনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে মালগাড়িগুলির গড় গতি সংক্রান্ত তথ্যও জানতে চেয়েছিলেন গৌড়। তা দিতে পারেনি রেল বোর্ড। সেই বিষয়টিও যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে দেশে দু’টি ডেডিকেটেড পণ্যবাহী করিডর  তৈরি করছে মোদি সরকার। ইস্টার্ন এবং ওয়েস্টার্ন ডিএফসি। মোদি সরকারের সাফ ঘোষণা, এর ফলে মালগাড়ির গতি বৃদ্ধি পাবে। সম্পূর্ণ আলাদা রেল লাইন থাকায় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলেও কোনওরকম বাধার সৃষ্টি হবে না। সংশ্লিষ্ট আরটিআই জবাবে এবিষয়ে কোনও উল্লেখ করা হয়নি। তবে রেলমন্ত্রকের অধীন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (ডিএফসিসিআইএল) সরকারিভাবেই জানিয়েছে, দু’টো পণ্যবাহী করিডরের ৯৩ শতাংশ কাজই শেষ। যেটুকু সামান্য অংশের কাজ বাকি, তা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হয়ে যাবে। যদিও এর মধ্যে বিহারের সোননগর থেকে বাংলায় হুগলির ডানকুনি পর্যন্ত অংশ ধরা হয়নি। 
ডিএফসিসিআইএল কর্তৃপক্ষ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ওয়েস্টার্ন ডিএফসির বিভিন্ন অংশ গত চার বছরের মধ্যে চালু হয়ে গিয়েছে। আর ইস্টার্ন ডিএফসির বিভিন্ন অংশ মোটামুটিভাবে চালু হয়েছে ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মার্চ মাসের মধ্যে। সেগুলি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। প্রশ্ন উঠছে, বিভিন্ন অংশ এত আগে চালু হওয়া সত্ত্বেও কেন দেশব্যাপী মালগাড়ির গড় গতি বৃদ্ধি পায়নি? উত্তর অধরাই!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ