Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তিরুপতি-বুদ্ধ মন্দির-অন্তর দর্পণ পুজোর যুদ্ধ জমে উঠেছে বারাকপুরে

থিম আর সাবেকিয়ানার মিশেলে কলকাতাকে টেক্কা দিচ্ছে বারাকপুর।

তিরুপতি-বুদ্ধ মন্দির-অন্তর দর্পণ পুজোর যুদ্ধ জমে উঠেছে বারাকপুরে
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: থিম আর সাবেকিয়ানার মিশেলে কলকাতাকে টেক্কা দিচ্ছে বারাকপুর। কোথাও বালাজি তিরুপতি মন্দির, কোথাও লন্ডনের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর, কোথাও বোতল ও চামচ দিয়ে বুদ্ধ মন্দির, কোথাও আবার অন্তর দর্পণ। থিম নির্ভর অনন্য সব সুন্দর মণ্ডপ তৈরি হয়েছে বারাকপুরে। সবমিলিয়ে ঐতিহাসিক শহর বারাকপুরের দুর্গাপুজো অন্য মাত্রা পেয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে আলোর রোশনাই। 

Advertisement

বারাকপুর শহরের বিগ বাজেট তথা সবচেয়ে বড় পুজো বলে পরিচিত মধ্য নোনা চন্দনপুকুর অধিবাসীবৃন্দের পুজো। এই পুজোর বয়স ৫১ বছর। তৈরি হয়েছে আশি ফুট উচ্চতার বালাজি তিরুপতি মন্দির। কুমোরটুলি থেকে আনা হয়েছে সাবেকি প্রতিমা। পুজো কমিটির সভাপতি বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস জানিয়েছেন, পুজো মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প সেভ ড্রাইভ সেফ লাইফ তুলে ধরা হয়েছে। 
এই মণ্ডপ থেকে কিছুটা এগিয়ে বারাকপুরের সবচেয়ে প্রাচীন বারোয়ারি পুজোটি হল শিবতলা স্পোর্টিং ক্লাবের। মণ্ডপ বোতল ও চামচ দিয়ে তৈরি। ৫০ ফুট উচ্চতার আর ৭০ ফুট চওড়া বুদ্ধমন্দির তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমা সাবেকি। পুজোর সম্পাদক সত্যজিৎ আচার্য এবং কর্মকর্তা রবীন দত্ত জানান, পুজোর বয়স ১১২ বছর। 
পুজোয় অন্তর দর্পণ থিম তৈরি করে সাড়া জাগিয়েছে পূর্ব তালবাগান ও সুকান্ত সরণি অধিবাসীবৃন্দ। তাদের ৩৮ বছরের পুজোয। সুতোর রিল, ডোকরার কাজ, তালপাতা দিয়ে অনন্য সুন্দর মণ্ডপ তৈরি করেছেন শিল্পী সায়ক রাজ। দুর্গার সামনে অসংখ্য প্রদীপ। সে আলোয় উদ্ভাসিত হচ্ছে দুর্গামঞ্চ। ঠাকুরের সামনে রাখা পাঁচ ফুট ব্যাসার্ধের লোহার পাত্র। তাতে আছে জল। যেখানে প্রত্যেক দর্শনার্থী জলে মায়ের প্রতিবিম্ব দেখতে পারবেন। এই পুজোর অন্যতম কর্মকর্তা বারাকপুর পুরসভার কাউন্সিলার জয়দীপ দাস। তিনি বলেন, আমাদের পুজোর থিম অন্তর দর্পণ। অর্থাৎ যে কেউ দর্পনে তার নিজের মধ্যে মা দুর্গাকে খুঁজে দিতে পারবেন। প্রত্যেক মানুষের মনেই রয়েছে মা দুর্গা। আমরা সেটাকেই আরও জাগ্রত করতে চাই। মণ্ডপের ভেতরে থাকবে একটি বড় আয়না, ঢোকার সময় প্রতিবিম্বে মাকে দেখবেন সবাই। তারপর ঢুকে সামনে থেকে হবে মায়ের দর্শন। কাউন্সিলার জিতব্রত পালিতের পুজো বলে পরিচিত মণ্ডলপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব। এই পুজোর বয়স ৭৭ বছর। থিম, রাজমহলে রাজরানি। রাজস্থানি ঘরানোর উপর ভিত্তি করে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য চন্দননগরের আলোর রোশনাই। তা প্রকৃত অর্থেই দেখার মত। 
বারাকপুর চিড়িয়া মোড়ের পুজো নিয়ে একসময় বিতর্ক হয়েছিল। সিপিএম আমলে এই পুজো নিয়ে গোলমাল হয়। দুর্গাকে থানার লকআপে থাকতে হয়েছিল। ’৮৭ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বর্তমান কর্মকর্তারা পুজো করতে পারেননি। সেই পুরনো দিনের ঘটনা মনে করিয়ে যুবমানস পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা বারাকপুর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রভাত ঘোষ বলেন, সিপিএম আমলে আমাদের পুজো করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তিন কর্মকর্তাকে চার দিন জেল খাটতে হয়েছিল। এবার আমরা করছি লন্ডনের মিউজিয়ামের অনুকরণে মণ্ডপ। যে মিউজিয়ামে বিলুপ্ত প্রাণীদের জীবাশ্ম রাখা হয়েছে তা তুলে ধরা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ