নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুধু ওষুধই ভেজাল নয়, সেই ওষুধের টাকা যে বেসরকারি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল, তাও চালু করা হয়েছিল ‘জাল’ নথিপত্র পেশ করে। মানে ভুয়ো নামে চালু করা হয়েছিল অ্যাকাউন্ট। তা খুলতে ব্যবহার করা হয় আর একজনের নামের ভুয়ো কাগজপত্র। আমতার ভেজাল ওষুধ কাণ্ডে উঠে এল এমনই নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সূত্রের খবর, আমতা কাণ্ডে ধৃত ওষুধ ব্যবসায়ী জেরায় জানিয়েছিলেন, তিনি বিহার থেকে ওই জাল ওষুধ কিনেছিলেন। তাঁর দাবিমতো বিহার ড্রাগ কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা। আমতা কাণ্ড নিয়ে তাঁদের মধ্যে তথ্য বিনিময়ও শুরু হয়েছে। সেই সুবাদে এইসব জানতে পেরেছেন ড্রাগ কন্ট্রোল আধিকারিকরা।
এদিকে আমতার বাজেয়াপ্ত হওয়া ওষুধ পরীক্ষা করে আরও ভেজাল ওষুধের সন্ধান মিলল। এর আগে নামী কোম্পানির ছাপ মারা ৪০ এবং এএইচ মাত্রার প্রেশারের ওষুধে ভেজাল মিলেছিল। এইবার ধৃতের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া ওই একই প্রস্তুতকারকের ছাপ মারা আরও এক ধরনের প্রেশারের ওষুধও জানা গেল ভেজাল। স্টেট ড্রাগস টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে সম্প্রতি পরীক্ষা হয়েছিল ওই ওষুধ। তারপরই এই রিপোর্ট জানা গিয়েছে। এছাড়া রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে সরবরাহ হওয়া বহুল ব্যবহৃত অ্যামক্সিসিলিন এবং পটাশিয়াম ক্ল্যাভিউলানেটের কম্বিনেশনের একটি নির্দিষ্ট ব্যাচের অ্যান্টিবায়োটিক গুণগত মানে ফেল করেছে। বিষয়টি শিয়ালদহের সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোর্সকে (সিএমএস) জানানো হয়েছে। প্রস্তুতকারক সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে রবিবার সংস্থার এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন।
সূত্রের খবর, এখন রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের প্রধান লক্ষ্যই হল, ঠিক কোথায় এই জাল ওষুধ তৈরি হচ্ছে, তা খুঁজে বের করা। আমতার ওষুধ ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিহারের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা-পয়সার লেনদেন হয়েছে। যে ব্যক্তির জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে সেই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল, তাকে খুঁজছে বিহার ড্রাগ কন্ট্রোল। ধরা পড়লে ভেজাল ওষুধের রহস্যের পর্দা আরও কিছুটা উন্মোচিত হবে বলেই ধারণা রাজ্যের।