নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলার ঘটনার পর নির্মীয়মাণ বহুতলের কাজকর্ম যাচাইয়ের জন্য একটি হাইপাওয়ার বিল্ডিং অডিট কমিটি গঠন করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই কমিটি ২৭টি বহুতল নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম চিহ্নিত করেছে। বৃহস্পতিবার বিধাননগরের ইলগাস ভবনে ওই বিল্ডিংগুলির নির্মাণকারীরা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিকরা অনিয়মের কারণ দর্শান। সেসব শোনেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই, পুরসচিব খলিল আহমেদ, হাইপাওয়ার কমিটির চেয়ারপার্সন অন্তরা আচার্য এবং অন্য পদস্থ আধিকারিকরা। বেআইনি বহুতল ভবনের তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলি যে রাজ্যের গঠিত হাইপাওয়ার কমিটির কাছে পাঠায়নি এদিন সেই অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ জানান দক্ষিণ দমদমের এক নির্মাণসংস্থার কর্ণধার। বেআইনি বাড়ি নির্মাণের অভিযোগে এই ব্যক্তিকেও এদিন তলব করা হয়। মন্ত্রীর কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগ, ‘বিধায়কের অ্যাসিস্ট্যান্ট’ তিন লক্ষ টাকা দিলেন আর বেআইনি বাড়ির নাম পাঠানো হচ্ছে না হাইপাওয়ার কমিটির কাছে! তাঁর স্বীকারোক্তি, আমি বেআইনি নির্মাণ করে ভুল করেছি। এজন্য ধার্য শাস্তি আমি মাথা পেতে নেব। ওইসঙ্গে তিনি এই দাবিও করেন, বেআইনি নির্মাণ ক্ষেত্রে অন্য অপরাধীরাও যেন ছাড় না-পায়, তা প্রশাসনকে দেখতে হবে।
হাইপাওয়ার কমিটির এই তদন্তের সঙ্গে বিধায়ক বা অন্যকোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির যোগ নেই। ফলে টাকার বিনিময়ে বেআইনি বাড়ির তথ্য না-পাঠানোর অভিযোগ কতটা বাস্তব, তা জানতে চান মন্ত্রী। একইসঙ্গে কমিটির শীর্ষকর্ত্রীর কাছেও বিষয়টি বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। অন্তরা জানান, কমিটির তদন্ত পুরসভার দেওয়া তথ্যের উপর নির্ভরশীল। বেআইনি বাড়ির বিরুদ্ধে রাজ্যের এই অভিযান চলবে। প্রতি ১৪ দিন অন্তর পুরসভাগুলি থেকে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট চাওয়া হবে।
চিহ্নিত ২৭টি বহুতলের নির্মাতা এবং বিল্ডিং প্ল্যান পাশের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারদের সকলের সামনে দাঁড় করিয়ে রেখেই ত্রুটিগুলি তুলে ধরা হয়। বেআইনি বাড়ি সর্বাধিক বরানগরে—আটটি! তারপরেই দক্ষিণ দমদম পুরসভার নাম—সাতটি। এছাড়া কলকাতার এন্টালি এবং বেনিয়াপুকুরে একটি করে, হাওড়ায় একটি, বালিতে ছয়টি এবং কামারহাটিতে তিনটি। প্রতিটি চিহ্নিত বাড়ির ত্রুটিগুলি জায়ান্ট স্ক্রিনে তুলে ধরা হয়। তাতে দেখা যায়, বালির দুটি নির্মীয়মাণ বহুতলে বেসমেন্ট পর্যন্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে অনুমতি ছাড়াই। আবার কামারহাটিতে দোতলা নির্মাণের অনুমতি নিয়ে বানানো হয়েছে আটতলা বাড়ি। সোজা কথায়, বিস্ময়ের পর বিস্ময়! বিল্ডিং প্ল্যানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ হয়েছে আকছার। আবার চারদিকে যথাযথ ছাড় না দিয়ে বাড়ানো হয়েছে নির্মীয়মাণ ভবনের বহর।
একের পর এক বেআইনি কার্যকলাপের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রীর সাফ কথা, পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঘোষণা না-হওয়া পর্যন্ত এসব বিল্ডিংয়ের একটিও ফ্ল্যাট বিক্রি করা যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞা বহুতলগুলির বাইরে বড়ো বড়ো করে লিখে রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



