নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ঘটনার সূত্রপাত! ‘সন্দেহভাজন’ পাকিস্তানি নাগরিক হিসাবে হুগলির হরিপালের বাসিন্দা ফতেমা বিবিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন। কিন্তু ৬০ বছরের ফতেমার দাবি, তিনি ভারতীয় নাগরিক। ১৯৬৫ সালে হুগলির হরিপালে জন্ম তাঁর। বাবা-মা দু’জনেই ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। তাঁদের নামে হুগলিতে জমি, কর দেওয়ার রেকর্ড এবং অন্যান্য সরকারি নথি রয়েছে। মাত্র তিন বছর বয়সে প্রথমবার বাবার সঙ্গে তিনি পাকিস্তানে যান। ১৯৮১ সালে সে দেশ থেকে স্থায়ীভাবে ভারতে ফিরে আসেন। প্রায় ১৩ বছর পাকিস্তানে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফিরে তিনি হুগলি জেলাতেই বসবাস করছেন। অথচ তাঁকে অভারতীয় বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বৃদ্ধা।
শনিবার সেই মামলায় ফতেমার দাবি, ২০০৩ সালে ভারতের নাগরিকত্ব চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে আবেদন করেছিলেন তিনি। আবেদনের সঙ্গে পরিচয়পত্র, হলফনামা, বিবাহের নথি, পরিবারের কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে তাঁর আবেদনের সেই ফাইল হারিয়ে গিয়েছে। বিষয়টি শুনেই ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘প্রৌঢ়া নিজেকে ভারতের নাগরিক প্রমাণ করতে পারলে ক্ষতিপূরণ কে দেবে? ভারত না পাকিস্তান? পাক নাগরিক বলে বৃদ্ধাকে জেলে ভরা হল। অথচ তাঁর দু’টি ফাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! ডকেট নম্বর রয়েছে ২০০২ এবং ২০০৫ সালের। অন্তত খুঁজে তো দেখতে হবে!’ আগামী ১৭ অগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
ফতেমার আরও দাবি, ভারতে ফিরে আসার পরে, ১৯৮২ সালে মোজাফ্ফর মল্লিকের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। তাঁদের দুই কন্যা রয়েছে। দুই মেয়েই জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। মামলায় বলা হয়েছে, বছরের পর বছর কেটে গেলেও কেন্দ্র কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে তাঁর ভারতে থাকার মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশও করে। কিন্তু নাগরিকত্বের আবেদন ঝুলেই থাকে।