


রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: বিধানসভার নথিতে অধিবেশনের দিনক্ষণে এখনও পর্যন্ত রেকর্ড গড়ে আছে কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের আমল। পরপর তিনবার কংগ্রেস সরকারের শাসনকালে তিনশোর বেশি দিন অধিবেশন বসেছিল বিধানসভায়! পরবর্তীতে বামফ্রন্ট সরকার কিংবা তারপর তৃণমূল সরকার রাজ্যের ক্ষমতায় এলেও বিধানচন্দ্র রায়ের আমলের রেকর্ডকে টপকাতে পারেনি। এখন আগামীর দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল, তারা দেখতে চায় এই বিজেপি সরকারের আমলে কতদিনের অধিবেশন বসে।
বিধানসভা ভবনকে গণতন্ত্রের মন্দির বলা হয়। রাজ্যের বাজেট পাস হয় বিধানসভা থেকে। আবার আইন প্রণয়ন হয় এখানেই। জনগণের স্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়গুলি বিধানসভায় তুলে ধরেন শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়করা। প্রশ্ন-উত্তর পর্ব, বিল ও প্রস্তাবের উপর আলোচনা হয় বিধানসভায়। ফলে সবদিক থেকে বিধানসভার অধিবেশনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই কারণে সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই তাদের বিধায়কদের নির্দেশ দেওয়া হয়, বিধানসভায় অধিবেশনের দিনগুলিতে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে।
বিধানসভায় অধিবেশন অনুষ্ঠানের বার্ষিক পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৫২ থেকে ১৯৫৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কংগ্রেসের বিধানচন্দ্র রায়। ওই পাঁচবছরে অধিবেশন বসেছিল ৩২৬ দিন। সেবার ১৮ জুন, ১৯৫২ সালে বিধানসভায় প্রথম অধিবেশন বসেছিল। আর শেষ অধিবেশন বসেছিল ২৫ মার্চ, ১৯৫৭ সালে। ১৯৫৭ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্তও মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বিধানচন্দ্র। ওই পাঁচবছরে বিধানসভায় অধিবেশন বসেছিল ২৮৮ দিন। ১৯৬২ সালে ফের মুখ্যমন্ত্রী হন বিধানচন্দ্র। তাঁর প্রয়াণের পর মুখ্যমন্ত্রী হন প্রফুল্লচন্দ্র সেন। ১২ মার্চ, ১৯৬২ সালে বিধানসভায় প্রথম অধিবেশন বসে। আর শেষ অধিবেশন বসেছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ সালে। ১৯৬২-১৯৬৭ সালের সময়কালে বিধানসভায় সর্বাধিক অধিবেশন বসেছিল ৩২৯ দিন। ওই রেকর্ড আর কেউ ভাঙতে পারেননি।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, কংগ্রেসের সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প প্রভৃতি নানা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছিল। উন্মোচিত হয়েছিল নতুন নতুন দিক। পবিত্র স্থান হিসাবে চিহ্নিত করে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হত এই বিধানসভাকে। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে। মুখ্যমন্ত্রী হন জ্যোতি বসু। ১৯৭৭-৮২ সালের সময়কালে বিধানসভায় অধিবেশন বসেছিল ২৮৯ দিন। এরপর বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনকালে বিধানসভার অধিবেশনের দিন সংখ্যা ক্রমাগত কমেছে।
২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১৫ বছরে তৃণমূলের সময়কালে বিধানসভার অধিবেশনের দিনসংখ্যা আরো কমেছে। পরপর তিনবার, পাঁচবছরের সময়কালে অধিবেশন বসেছে যথাক্রমে ১৯৯, ১৬৫ ও ১৬৮ দিন। ২০২৬ সালের ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার মধ্যে দিয়ে জয়ী হয় বিজেপি। এবার বিজেপি আমলে কতদিন বিধানসভার অধিবেশন বসবে, তা নিয়েই কৌতূহল সকলের।
প্রোটেম স্পিকার পদ অলংকৃত করা বিজেপির বর্ষীয়ান বিধায়ক তাপস রায় বলেন, তৃণমূলের সময় স্বরাষ্ট্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজেট বিধানসভায় আলোচনা করাই হত না! ফলে দিনসংখ্যা বাড়েনি। আর পরিষদীয় রীতিনীতিকে গুরুত্ব না দিয়ে বিধানসভাকে নিয়ে ছেলেখেলা করত তৃণমূল। অন্যদিকে, তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, অধিবেশনের দিন সংখ্যা আরো বেশি হলে ভালোই হত। কিন্তু যতদিন অধিবেশন বসেছে, সবসময় তৎকালীন বিরোধী বিজেপির বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়েছে।