নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘অভিযুক্ত কী করে সাক্ষী হতে পারেন?’ এই আইনি প্রশ্ন তুলে বুধবার মুলতুবি হয়ে গেল ইডির দায়ের করা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানি। এ নিয়ে আদালত চত্বরে নানা শোরগোল সৃষ্টি হয়। এদিন কলকাতার বিচারভবনের বিশেষ আদালতে ছিল এই মামলার সাক্ষ্যদান। সেখানে সাক্ষীর তালিকায় যিনি ছিলেন তিনি একজন অভিযুক্ত। আবার তিনি অভিযুক্ত দু’টি সংস্থার প্রতিনিধিত্বও করছেন। এই অভিযোগ তুলে জামিনে থাকা এক অভিযুক্তের আইনজীবী সঞ্জয় দাশগুপ্ত এদিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন ব্যক্তি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কোনওমতেই সাক্ষী হতে পারেন না। এক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। পুরো বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পরই এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারক। তারপরই এদিনকার মতো মামলার শুনানি মুলতুবি হয়ে যায়। পরবর্তী মামলার শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ১০ এপ্রিল।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানিকে ঘিরে কিছুতেই আর বির্তক পিছু ছাড়ছে না। সোম ও মঙ্গলবার এই মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন ‘রাজসাক্ষী’ কল্যাণময় ভট্টাচার্যের মামা। তিনি কল্যাণময়ের (ভাগ্নে) বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে এই মামলায় সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর সংস্থার কাজকর্মের দেখভাল করতেন ভাগ্নে। তাঁর কথাতেই সরল বিশ্বাসে তিনি বিভিন্ন নথিপত্রে সইসাবুদ করতেন। শুধু তাই নয়, তাঁর কোম্পানির অ্যাকাউন্টও দেখাশোনা করতেন কল্যাণময়। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীদের নানা প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী কল্যাণময়ের মামা একের পর এক অভিযোগ আনেন ভাগ্নের বিরুদ্ধে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এদিন এই মামলায় একজন সাক্ষী অভিযুক্ত হয়েও সাক্ষ্য দিতে আসায় তা নিয়ে চর্চা চলে। এই মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামী বলেন, এদিনকার ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। এখন দেখার বিষয়, যে সাক্ষীকে নিয়ে বির্তকের সৃষ্টি হয়েছে, তাকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ইডি কী পদক্ষেপ করে।