সংবাদদাতা, লালবাগ: ভগবানগোলা-২ ব্লকের আখেরিগঞ্জ পঞ্চায়েতের কাজিপাড়া বাঁধপুল গ্রামে ঢোকার মুখে দেড় কিলোমিটার রাস্তা প্রায় দুই দশক ধরে বেহাল। বছরের অন্য সময়ে কোনপ্রকারে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় রাস্তায় এক হাঁটু জলকাদা জমে থাকায় হেঁটেও চলাচল করা যায় না। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির থেকে রেহাই পেতে ভরা বর্ষার আগে রাস্তার দাবিতে সরব হয়েছেন সীমান্তপাড়ের চরের বাসিন্দারা। একই সঙ্গে অভিযোগ, এই বেহাল রাস্তাই গ্রামের ছেলেমেয়েদের বিয়েতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেহাল রাস্তা দেখে ফিরে যাচ্ছেন পাত্র বা পাত্রীর বাড়ির লোকেরা। স্বাভাবিকভাবেই ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিতে নাকাল হচ্ছেন কাজিপাড়া, বাঁধপুল এবং পার্শ্ববর্তী চক সরলপুরের বাসিন্দারা।
ভগবানগোলা-২ ব্লকের সীমান্তবর্তী চর এলাকার দুটি প্রত্যন্ত গ্রাম কাজিপাড়া ও বাঁধপুল। আখেরিগঞ্জ পঞ্চায়েতের এই দুটি গ্রামে ঢোকার মুখে দেড় কিলোমিটার মাটির রাস্তা বেহাল। রাস্তা জুড়ে খানাখন্দ, গর্ত থাকায় অ্যাম্বুলেন্স বা ছোটগাড়ি ঢোকে না। ঝুঁকি নিয়েই সাইকেল, মোটরসাইকেল আরোহীদের যাতাযাত করতে হয়। বর্ষায় প্রায় তিনমাস রাস্তায় এক হাঁটু জলকাদা জমে থাকে। কর্মহীন হয়ে পড়েন দুই গ্রামের কয়েকশো মানুষ। শিঁকেয় ওঠে ছেলেনেয়েদের পড়াশোনা। বাঁধপুলের সিকান্দার শেখ বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে রাস্তায় মাটি পড়েছিল। তারপর আর কোনো কাজ হয়নি। ফলে রাস্তায় হেঁটে যাতায়াত করাও কষ্টসাধ্য। চরের গরিব মানুষগুলির কথা কেউ ভাবেন না। অথচ ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী থেকে নেতা-কর্মীরা এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। ভোটপর্ব মিটলে কেউ প্রতিশ্রুতি রাখেন না। কাজিপাড়ার আমিনা বিবি বলেন, আর প্রতিশ্রুতি নয়। চরের বাসিন্দাদের সমস্যার সমাধানে সব রাজনৈতিক দলগুলি মিলিতভাবে উদ্যোগ নিক। অপর বাসিন্দা ইসমাতারা বিবি বলেন, রাস্তার জন্য এখানকার ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিতে সমস্যা হচ্ছে। গত বছর হরিহরপাড়ায় মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা অনেক দূর এগিয়েছিল। পাকা কথার আগে পাত্রের বাবা ফোনে জানান, রাস্তা খারাপের জন্য এখানে বিয়ে দেবেন না। তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান লাভলি বিবি বলেন, ওই দেড় কিলোমিটার রাস্তার জন্য জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছিলাম। তার কিছুদিন পরে অনাস্থা এনে আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর কাজ আর এগয়নি। ভগবানগোলার বিধায়ক রেয়াত হোসেন সরকার বলেন, রাস্তাটি যাতে তাড়াতাড়ি হয় সেই বিষয়ে উদ্যোগ নেব।