নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শুরু হল জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি। সেই যাত্রার প্রাকপর্বের অনুষ্ঠান শুরু হল ছ’শো বছর পার করা মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে। বুধবার ভক্তদের উপস্থিতিতে ‘চন্দনের লেপ’ নিলেন প্রভু। বৈশাখের প্রবল দাবদাহে জগৎপ্রভুর মাথাব্যথা হয়। তাই তাঁর মাথা ও অঙ্গজুড়ে চন্দনকাঠ বেটে প্রলেপ দিতে হয়। তাতে কমে মাথাব্যথা। শরীরও তাপ সহন করতে পারে। আগামী ৪১ দিন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে চন্দনলেপ দেওয়া হবে। তারপর তাঁদের স্নানযাত্রা ও মাসির বাড়ি যাত্রা।বুধবার ভোর থেকে মাহেশে শুরু হয় ৬২৯তম বছরের চন্দনযাত্রা অনুষ্ঠান। ভোরবেলায় মঙ্গল আরতির পর হয়েছে চন্দনযাত্রার প্রস্তুতি। ভক্তদের উদ্যোগে শুরু হয় চন্দন বাটা পর্ব। বিরাট আয়তনের পাত্রে জমতে থাকে চন্দন। এদিন যাত্রার সময় বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। কিন্তু পুণ্যলগ্নের ভক্তি আর আনন্দে কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট মানুষজন। মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত পিয়ালি অধিকারী বলেন, ‘স্বয়ং জগন্নাথই চন্দনের লেপ চেয়েছিলেন। সেই ঐতিহ্যবাহী ক্ষণকে স্মরণে রেখে চন্দনযাত্রার আয়োজন হয়। মাহেশ জগন্নাথ মন্দির রামকৃষ্ণ ও মা সারদার স্মৃতিধন্য। আমরা ঐতিহ্য রক্ষা করি। ৬২৮ বছর ধরে রীতি মেনেই চন্দনযাত্রা পালিত হয়। এবারও ব্রাহ্মমুহূর্তে সমস্ত বিধি মেনে প্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রাকে চন্দনের লেপ দেওয়া হয়েছে। ৪১ দিন ধরে তা পালন হবে।’ শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সন্তোষ সিং(পাপ্পু) বলেন, ‘এদিন দু’টি আনন্দঘন ঘটনা ঘটেছে। ঐতিহ্যের মাহেশে জগন্নাথ প্রভুর চন্দননযাত্রা শুরু হয়েছে। পুরসভা যাবতীয় সহযোগিতা করবে। সেই প্রাঙ্গণেই দীঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের অনুষ্ঠান দেখানো হয়। ভক্তদের মধ্যে এদিন ছিল তুমুল উন্মাদনা।’



