৫০ বছর! সময়টা নেহাৎ কম নয়। তবু ভুলিনি কিছুই। প্রতিটা মুহূর্ত যেন সিনেমা। দর্শকঠাসা ইডেনে বড়ো ম্যাচ। প্রবল বৃষ্টিতে ভারী মাঠ। শুরুতেই উলগার সেন্টার থেকে আমার হেড জালে জড়ানো মাত্র মোহন বাগান গ্যালারিতে কানফাটা উল্লাস— গোওওওওল। ১৭ সেকেন্ডেই লক্ষ্যভেদ। বাকি সময়ে ইস্ট বেঙ্গল অবশ্য চাপ তৈরি করেছিল। তবে আমাদের রক্ষণভাগের প্রশংসা করতেই হবে। বিশেষ করে প্রদীপ চৌধুরির কথা না বললেই নয়। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিততেই সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কী উচ্ছ্বাস। গ্যালারিতে কেউ আনন্দে পাগলপারা, কেউ আবার অঝোরে কাঁদছে। সেই মুহূর্ত কখনও ভোলার নয়। ১৯৭৬ সালের ডার্বিটি আমার গোলেই জিতেছিল মোহন বাগান। কেরিয়ারে বহুবার বিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছি। কিন্তু ১৭ সেকেন্ডের গোলটা অবিশ্বাস্য। ময়দানে অমর হয়ে থাকবে। মহম্মদ আকবরের কথা উঠলেই এখনও সেই গোলের স্মৃতিচারণ করেন সমর্থকরা। শুনে গর্ব হয়। ফুটবলের মক্কা মনে রেখেছে আকবরকে। আমার কেরিয়ারে তো বটেই, মোহন বাগানের ইতিহাসেও ওই বড়ো ম্যাচের গুরত্ব ছিল অপরিসীম। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ক্রমাগত হেরে তখন কোণঠাসা মোহন বাগান। এমনকি, ১৯৭৫ সালে আইএফএ শিল্ডে মোহন বাগানকে ৫-০ ব্যবধানে দুরমুশ করেছিল ইস্ট বেঙ্গল। পরের মরশুমেই প্রত্যাবর্তন। বলতে দ্বিধা নেই, ওই ম্যাচটাই চাকা ঘুরিয়েছিল।



