Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১৫৫৩ দিন পর বাংলায় ফিরল ১০০ দিনের কাজ, হাতে কোদাল নিয়ে সূচনা করলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী

২০২২ সালের ৯ মার্চ। পূর্বতন সরকারের দুর্নীতির অভিযোগে ১০০ দিনের কাজের কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ করেছিল মোদি সরকার।

১৫৫৩ দিন পর বাংলায় ফিরল ১০০ দিনের কাজ, হাতে কোদাল নিয়ে সূচনা করলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ২০২২ সালের ৯ মার্চ। পূর্বতন সরকারের দুর্নীতির অভিযোগে ১০০ দিনের কাজের কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ করেছিল মোদি সরকার। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়িয়েছিল কলকাতা থেকে দিল্লির রাজপথ পর্যন্ত। কিন্তু কোনো ফল মেলেনি। শেষমেশ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে ফের বাংলায় চালু হল মনরেগা প্রকল্প। গত সপ্তাহ থেকেই এই কাজ চালু হওয়া নিয়ে তোড়জোড় চলছিল। শেষমেশ মঙ্গলবার, দীর্ঘ ১৫৫৩ দিনের মাথায় উলুবেড়িয়া-২ ব্লকের জোয়ারগড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের জগরামপুর কর্মকারপাড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের উপস্থিতে চালু হল মনরেগা প্রকল্প। একই সঙ্গে গোটা রাজ্যের ৩৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে চালু হয়েছে দুই থেকে তিনটি করে স্কিমের কাজ। তবে এই প্রকল্পের পরিবর্তে আগামী ১ জুলাই থেকে গোটা দেশের মতো এরাজ্যেও চালু হবে ভিবি-জি রাম জি প্রকল্প। 

Advertisement

রাজ্যে ১০০ দিনের কাজে ইতিমধ্যে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এদিন নিজের হাতে কোদাল দিযে মাটি কেটে মনসাতলা থেকে কনচৌকি বাঁধ পর্যন্ত ন্যাচা খাল সংস্কারের কাজের সূচনা করেন মন্ত্রী। প্রশাসন সূত্রে খবর, এই কাজে ৩০ জন শ্রমিকের জন্য ১২১৫ শ্রমদিবস ধরা হয়েছে। কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৯৬৭ টাকা।
এদিন পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, আমরা কষ্টে ছিলাম। কিন্তু নতুন সরকার হতেই এই কাজ শুরু করার নির্দেশ পেয়েছি। টাকাও এসে গিয়েছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে ছিলেন। এসআইআর-এ ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ গিয়েছে তারা অবশ্য কোনো সুবিধা পাবে না। এরা অনেকদিন আমাদের জমি জায়গা দখল করে রেখেছে। আমাদের ভাত খেয়েছে। ঘটিয়েছে আইনশৃঙ্খলার অবনতি পর্যন্ত। আপনারা দেখছেন, বাংলাদেশে ফেরার জন্য হাকিমপুর বর্ডারে লাইন লেগে গিয়েছে। আমরা বলেছি, তোমরা ভালোয় ভালোয় নিজের দেশে ফিরে যাও, যাতে আমাদের কোনো কষ্ট করতে না-হয়। এই গ্রামবাংলার মানুষের পেটে লাথি মেরে জোর করে এখানে কেউ থাকবে, এটা আমরা হতে দেব না। জোর করেই তাদের ফেরত পাঠাব।
এদিনের অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন দপ্তরের সচিব পি উলগানাথন, জেলাশাসক পি দীপাপপ্রিয়া, দুই বিধায়ক চিরণ বেরা ও অমিত সামন্ত এবং মহকুমা শাসক মানসকুমার মণ্ডল প্রমুখ। 
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্বতন জমানায় নিজের লোকেদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হত। লক্ষ্মী ভাণ্ডার পেত তিন লাখ পুরুষ! পুরুষরা মহিলাদের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছিল। এটা আমরা করতে দেব না। যারা পাওয়ার যোগ্য শুধু তারাই পাবে। তিনমাসের মধ্যে তালিকা ঝাড়াই বাছাই হয়ে যাবে। যারা অযোগ্য তারা বাদ যাবে। সরকার যেটা বলেছে সেটা করবে। প্রথম মাস থেকেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আপনারা চোখের সামনে পরিবর্তন দেখতে পাবেন। মন্ত্রী বলেন, আপনারা সবাই নিয়ম মেনে চলুন, সরকারকে সাহায্য করুন, যাতে আমরা উন্নয়ন করে মানুষকে ঠিকঠাক পরিষেবা দিতে পারি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ