সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: শেষপর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কাই সত্যি হল। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে একটি বাঘিনি এনে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ছেড়েছিল বনদপ্তর। কিন্তু বনদপ্তরের সূত্রের খবর, সেই বাঘিনিটি বক্সার জঙ্গলে নেই। সেটি বক্সার জঙ্গল ছেড়ে পূর্ব দিকে এগিয়ে অসমের রায়মোনা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে চলে গিয়েছে। এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়ে বিভিন্ন মহলে। যদিও বনদপ্তরের শীর্ষকর্তারা এনিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এনিয়ে জানতে রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি।
কুমারগ্রামের সংকোশ নদীকেই অসম-বাংলা সীমানা হিসাবে ধরা হয়। কুমারগ্রামের সংকোশ নদীর পূর্ব দিকেই রয়েছে অসমের রায়মোনা টাইগার রিজার্ভ। সূত্রের খবর, সংকোশ নদী পেরিয়ে বাঘিনিটি অসমের মানস টাইগার রিজার্ভের কোর ও বাফার জোন এলাকা রায়মোনা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে চলে গিয়েছে। গত ২ অক্টোবর বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ২৫ মাইল টাওয়ারের জঙ্গলের ২.২ হেক্টর ঘেরাটোপ থেকে তিনবছর বয়সি বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভের বাঘিনিটিকে উন্মুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বাঘিনিটি ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে যায় ৪ অক্টোবর। ঘেরাটোপ থেকে বেরোনোর পর ৬ অক্টোবর জঙ্গলে প্রথম শিকার করে। একাধিক চিতল হরিণ ও বার্কিং ডিয়ার শিকার করেছিল বাঘিনিটি। এরপর গত ২০-২২ দিন ধরে বাঘিনিটি বক্সার পূর্ব ডিভিশনের ৩৯০ বর্গ কিমি এলাকা রেইকি করতে করতে পূর্ব দিকে এগোতে থাকে। বাঘিনিটি বক্সার ২৫ মাইল টাওয়ারের জঙ্গল থেকে জয়ন্তী ও চুনিয়া হয়ে পূর্ব দিকে সংকোশের দিকে এগোতে থাকে।
সূত্রের খবর, গত শুক্রবার সন্ধ্যা নামার পরেই বাঘিনিটি সংকোশ নদী পেরিয়ে অসমের রায়মোনার জঙ্গলে চলে যায়। বাঘিনিটিকে ট্র্যাক করতে ও নজরে রাখতে বনদপ্তর বক্সার জঙ্গলে অত্যাধুনিক ব্যবস্থা করেছিল। তাতে ৬০ জন বনকর্মীকে নিয়োজিত করা হয়। পাশাপাশি ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি (এনটিসিএ) এবং ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞরাও বাঘটির দিকে নজরদারি চালাচ্ছিলেন। কিন্তু এতকিছুর পরেও বাঘিনিটি বক্সার জঙ্গলে থিতু হল না।
বনদপ্তরের সূত্র মনে করছে, পুরুষ সঙ্গীর খোঁজেই বাঘিনিটি অসমে চলে গিয়েছে, যা একান্তভাবে বাঘেদের জীবনশৈলী।



