Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

থামা: মানুষ ও বেতালের প্রেম কাহিনি

২০১৮ সালে যখন অমর কৌশিক পরিচালিত ‘স্ত্রী’ মুক্তি পেয়েছিল, তখন ‘হরর কমেডি ইউনিভার্স’ তৈরি করার কথা ভাবেইনি প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাডক’।

থামা: মানুষ ও বেতালের  প্রেম কাহিনি
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

• ২০১৮ সালে যখন অমর কৌশিক পরিচালিত ‘স্ত্রী’ মুক্তি পেয়েছিল, তখন ‘হরর কমেডি ইউনিভার্স’ তৈরি করার কথা ভাবেইনি প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাডক’। স্বতন্ত্র ছবি হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়ার প্রায় চার বছর পর যখন ‘ভেড়িয়া’ মুক্তি পায়, তখন বোঝা যায় বলিউডে এক নতুন ইউনিভার্সের কথা ভাবা হয়ে গিয়েছে। এই ‘হরর কমেডি ইউনিভার্স’ এখন বেশ জাঁকিয়ে বসেছে দর্শক মনে। এর মধ্যে মুক্তি পেয়েছে ‘মুঞ্জ্য’ এবং ‘স্ত্রী ২’। আর এই বছরে ‘ম্যাডক’-এর দিওয়ালি উপহার ইউনিভার্সের পঞ্চম ছবি ‘থামা’।

Advertisement

প্রতিটি ছবির বিশেষত্ব ভারতের কোনও না কোন আঞ্চলিক লোককাহিনি। এই ছবিও তার ব্যতিক্রম নয়। আদিত্য সারপোতদার এই ছবির গল্প সাজিয়েছেন রক্তবীজ অসুরের গল্পের লোককাহিনি থেকে। এক বেতাল রক্তবীজের সমস্ত রক্ত শুষে নিয়ে মা দুর্গাকে সাহায্য করেছিল অসুর-বধে। ‘থামা’ এই গল্পের সূত্র ধরেই এগিয়েছে। পাহাড়ের কোলে ঘন জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে ‘বেতাল রাজ্য’। সেই কবে আলেকজান্ডার (ছবিতে সিকন্দর) এসেছিল ভারত-জয় করতে, তবে থেকে বেতালেরা আছে সেখানে। এককালে তারা মানুষের রক্ত খেত। ভারতের স্বাধীনতার লড়াইয়ে ইংরেজদের রক্ত শুষে নিয়েছিল তারা (আক্ষরিক অর্থেই)। কিন্তু মুশকিল বাঁধল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময়। মানুষই মানুষের রক্ত-পিপাসু দেখে বেতালেরা ঠিক করল তারা আর মানুষের রক্ত খাবে না। কেউ খেলে সেটা হবে ঘোর অপরাধ। কিন্তু এই প্রতিজ্ঞা মানল না তাদেরই দলের সর্দার যক্ষাসন (নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি)। তাকে গুহাবন্দি করে রাখল বেতালের দল। ভালুকের তাড়া খেয়ে নিরীহ সাংবাদিক অলোক গয়াল (আয়ুষ্মান খুরানা) যখন জঙ্গলে দিশেহারা তখনই তাকে উদ্ধার করল তারকা (রশ্মিকা মন্দানা), যে ওই বেতাল-রাজ্যের বাসিন্দা। আর এইখানেই আগের ছবিগুলি থেকে আলাদা পথ ধরল ‘থামা’। হয়ে উঠতে চাইল ‘মানুষ-বেতাল’এর প্রেম-কাহিনি। কিন্তু আয়ুষ্মান-রশ্মিকার রসায়নে বিশেষ স্ফুলিঙ্গ দেখা গেল না।

ধারাবাহিকতার বাইরে গিয়ে ইউনিভার্সের নতুন শাখা এবং নতুন চরিত্রের সূচনা হয়েছে এই ছবিতে। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে একটু বেশি সময় নিয়ে ফেলেছেন পরিচালক। তাই ছবির প্রথমার্ধ খানিকটা ঢিলে বললেই চলে। গল্প গতি পায় বিরতির পর। অন্যান্য ম্যাডক ইউনিভার্সের ছবির মতই ‘থামা’র সংলাপ বুদ্ধিদীপ্ত। নীরেন ভাট, অরুণ ফুলারা এবং সুরেশ ম্যাথিউ-এর চিত্রনাট্যে খানিক দুর্বলতা থাকলেও, সংলাপের চতুরতায় অনেকটাই সামলে নেওয়া গিয়েছে। ভিএফক্স ভালো। বিশেষ করে ভেড়িয়া (বরুণ ধাওয়ান) ও বেতাল আয়ুষ্মানের সম্মুখ সমর বেশ টানটান। ছবির সেরা সিকোয়েন্স রয়েছে ক্লাইম্যাক্সে। তবে সৌরভ গোস্বামীর চিত্রগ্রহণ অন্যান্য ছবির তুলনায় একটু দুর্বল।
ম্যাডক ইউনিভার্সে ‘থামা’ হিসেবে আয়ুষ্মান ভালো। ভিলেন নওয়াজকে নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়। আশা করা যায় আগামী ছবিগুলিতে তাঁর চরিত্রের জোর বাড়বে। পরেশ রাওয়াল চমৎকার। এই ছবির দুর্বল দিক নায়িকা রশ্মিকা। গানগুলি একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। বরুণ ধাওয়ান এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষণিক উপস্থিতি উপাদেয়। এই ইউনিভার্সের আগামী ছবির জন্য আশা করা যায় দর্শকের অপেক্ষা থাকবে।
দেবত্রী ঘোষ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ