বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: কলকাতা শহর ঘেষা দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার গুরুত্বপূর্ণ ঠাকুরপুকুর মহেশতলা ব্লক প্রশাসনে কাজের চাপ রোজ বাড়ছে। সেজন্য বিভিন্ন বিভাগে যতজন কর্মী, বাস্তুকার থাকা দরকার, তা নেই। ফলে এক একজন কর্মীকে অতিরিক্ত কাজের দায়িত্ব নিতে হয়। তাতে কোনও কাজ সঠিক সময়ে হয় না। উল্টে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে কোথাও কোথাও গোঁজামিল দিতে হচ্ছে, কোথাও কাজ থমকে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ঠাকুরপুকুর মহেশতলা ব্লক প্রশাসনকে রোজ রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কলকাতা ঘেষা হওয়ার জন্য এই ব্লকে ছোট ছোট প্লট কিনে বাড়ি করার ঝোঁক বেড়েছে। দোতলা পর্যন্ত বাড়ির প্ল্যান বিডিও অফিস মঞ্জুর করে। এরপর তিনতলা ও চারতলা হলে বিডিও অফিসের হাত ঘুরে তা চলে যায় জেলা পরিষদের কাছে। এখানে প্রতিমাসে দোতলা বাড়ির প্ল্যান ৭০ থেকে ৮০টি জমা হয়। এই সংখ্যায় প্ল্যান যাচাইয়ের জন্য পাঁচ থেকে ছ’জন বাস্তুকার দরকার। সেখানে মাত্র দু’জন আছেন। তাও একজন সর্বশিক্ষা মিশন প্রকল্প থেকে ধার করা। এই দু’জনকে বাড়ির প্ল্যান যাচাই করা ছাড়াও ব্লকের একাধিক প্রকল্পের কাজের দায়িত্ব দেওয়া আছে। সবগুলি করতে গিয়ে এতটাই চাপ নিতে হচ্ছে যে, তাতে সব কাজ জট পাকিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে আপার ডিভিশন এবং লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক নেই। অ্যাকাউন্টস বিভাগে ক্যাশিয়ার নেই। নেই কোনও বড়বাবু। ত্রাণ বিভাগের এক করণিককে দিয়ে বড়বাবুর কাজ চালাতে হচ্ছে। সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বিভাগকে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বার্ধক্যভাতা সহ আরও অনেক প্রকল্প দেখতে হয়। এই বিভাগে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অফিসারের পদ খালি হয়ে পড়ে আছে। পঞ্চায়েত বিভাগে পিডিও, ইউডি করণিক বা পিওন– কেউ নেই। অস্থায়ী লোক দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। খাদ্যবিভাগেও লোকজন কম।
এক আধিকারিকের কথায়, লোকজন এত কম থাকার জন্য কাজ চালাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে। এর ভিতর কেউ কেউ কাজে ফাঁকি দিচ্ছেন। ঠাকুরপুকুর মহেশতলা ব্লকের সহ সভাপতি বিপ্লব মণ্ডল অপ্রতুল কর্মীর সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি উপর মহলের নজরে আনা হয়েছে।