Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

ঠাকুরবাড়ির ক্রিসমাস কেক

ক্রিসমাস কেক নানারকম রং এবং ফুল পাতা দিয়ে সাজানো হয়। খানিকটা পিচকারির মতো দেখতে একটি জিনিস পাওয়া যায় তাই দিয়ে নানাবিধ ফুলকাটা করে সাজানো হয়।

ঠাকুরবাড়ির ক্রিসমাস কেক
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ক্রিসমাস কেক নানারকম রং এবং ফুল পাতা দিয়ে সাজানো হয়। খানিকটা পিচকারির মতো দেখতে একটি জিনিস পাওয়া যায় তাই দিয়ে নানাবিধ ফুলকাটা করে সাজানো হয়। নাম লেখা, ফুল তৈরি, মূর্তি তৈরি সবই ইচ্ছামতো করা যায়। তবে যাঁর কাছে কেক সাজানোর উপকরণটি নেই, সেই ব্যক্তি একটি কাগজকে মুড়ে নলের আকৃতি দিয়ে অনায়াসেই কেক সাজানোর কাজে লাগাতে পারেন। কেকের উপরে সচরাচর গোলাপি আর সবুজ রং দেওয়া হয়। হলুদও সময় সময় লাগে। শাকের রং দিয়ে সবুজ করা হয়। জাফরান দিয়ে হলদে রং।

Advertisement

ছোট্ট বন্ধুরা, কেক সাজানোর এই বর্ণনা এখনকার কোনও দোকানের নয়। এই বর্ণনা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জোড়াসাঁকোর বাড়ির কেক সাজানোর। তোমরা হয়তো ভাবছ, কীভাবে জানা গেল এই কেক সাজানোর বর্ণনা? আসলে কবিগুরুর ভাইঝি প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবী ‘আমিষ ও নিরামিষ আহার’ নামে একটি বই লেখেন। সেখানেই তিনি ঠাকুরবাড়ির কেক সাজানোর বর্ণনা দিয়েছেন।
শুধু কি তাই, হেমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবীর লেখা থেকে জোড়াসাকোঁর বাড়িতে তৈরি হওয়া বিভিন্ন কেকের কথাও জানা যায়। সামনেই বড়দিন। আর তার পরই ইংরেজি নববর্ষ। ক্রিসমাস ও নিউ ইয়ার উপলক্ষ্যে তো কেকের উৎসব শুরু হয়ে যায়।
ঠাকুরবাড়িতে এক বিশেষ ধরনের ক্রিসমাস কেক তৈরি হতো। যেখানে ময়দা, চিনি, কিশমিশ, ডিম, মাখন, সুজি, জায়ফল, দারচিনি ছাড়াও কমলালেবু, কুমড়ো ও আদার মোরব্বা দেওয়া হতো। তবে ঠাকুরবাড়িতে ক্রিসমাস কেক ছাড়াও অন্য নানান ধরনের কেক তৈরি হতো। যেমন— স্পঞ্জ কেক, হরতন কেক, কুইন কেক, পাউন্ড কেক, বোম্বাই গোল্ডেন কেক, বাদামের কেক ইত্যাদি।
আমরা জানি কেক হল সাহেবি খাবার। যেহেতু সেই সময় প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ও দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়িতে অনেক সাহেব আসতেন, তাই জোড়াসাঁকোর বাড়িতেও কেক খাওয়ার প্রচলন শুরু হয়। চা-চক্রে পরিবেশন করা হতো কেক। জানা যায়, রবীন্দ্রনাথের দিদি স্বর্ণকুমারী দেবী চায়ের আড্ডায় অতিথিদের সুন্দর জাপানি কাপে চা পরিবেশন করতেন। সেখানেও কেক খাওয়ানো হতো।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বড়োদিন’ নামে এক প্রবন্ধ লিখেছিলেন। তাতে তিনি লেখেন, ‘আজ পরিতাপ করবার দিন, আনন্দ করবার নয়। আজ মানুষের লজ্জা সমস্ত পৃথিবী ব্যাপ্ত ক’রে। আজ আমাদের উদ্ধত মাথা ধুলায় নত হোক, চোখ দিয়ে অশ্রু বয়ে যাক। বড়োদিন নিজেকে পরীক্ষা করবার দিন, নিজেকে নম্র করবার দিন।’ অর্থাৎ প্রভু যিশুর আত্মত্যাগের কথা তিনি তুলে ধরেছেন। যাইহোক, রবি ঠাকুর শান্তিনিকেতনে তিনদিনের পৌষ উৎসবের সমাপ্তি দিবস পালন করতেন ২৫ ডিসেম্বর। এই উপলক্ষ্যে পিঠে-পুলির পাশাপাশি কেকও পরিবেশন করা হতো।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ