ব্যাংকক, ৮ ডিসেম্বর: ভেস্তে যেতে চলেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ। ফের সীমান্ত সংঘাতে জড়াল থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। যার জেরে অগ্নিগর্ভ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতি। সোমবার কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন এক থাই সেনা। জখম আরও অন্তত আট। যার পাল্টা হিসেবে পড়শি দেশে বিমান হামলা শুরু করেছে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে মালয়েশিয়া। গোটা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দু’পক্ষকেই সংযত হওয়ার আবেদন করেছেন সেদেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। পাশাপাশি বিবাদমান দু’দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তায় প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
এদিন রয়্যাল থাই সেনার তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এদিন কেবলমাত্র কম্বোডিয়ার সামরিক স্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। সাধারণ মানুষের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তার উপরে নজর দেওয়া হয়েছে। বিমান হামলার ভিডিও প্রকাশও করা হয়েছে থাই সেনার তরফে। যদিও কম্বোডিয়ার পাল্টা দাবি, থাই আক্রমণে জখম হয়েছেন তাদের দেশের অন্তত তিনজন সাধারণ মানুষ। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রামবাসীদের সরিয়ে আনা হচ্ছে। সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষের জন্য থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া একে অন্যের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশীর সীমান্ত বিবাদ পুরনো। ‘পান্না ত্রিভুজ’ (এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গেল) নামে পরিচিত ভূভাগে মিলেছে তিনটি দেশ থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া-লাওস। ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই এলাকায় রয়েছে একাধিক প্রাচীন মন্দির। যার মধ্যে অন্যতম প্রিয়া বিহার নামে হাজার বছরের পুরনো মন্দির। এই মন্দিরের দখল ঘিরেই বারবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে।
১৯০৭ সালে এই মন্দিরকে কম্বোডিয়ার অংশ বলে দেখানো হয় ম্যাপে। তখন ফরাসি উপনিবেশ ছিল দেশটি। পরবর্তীকালে সেটিকে নিজেদের বলে দাবি করে থাইল্যান্ড। ১৯৬২ সালে এই মন্দিরকে কম্বোডিয়ার অংশ বলে রায় দিয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস। তবে তারপরেও দুই সমস্যার নিষ্পত্তি হয়নি।