নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এনসিইআরটির পাঠ্য পুস্তক নিয়ে বিভিন্ন সময় একের পর এক বিতর্ক একেবারে চরমে উঠেছে। কখনো অভিযোগ উঠেছে, দেশের বিচার ব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করা হয়েছে পাঠ্যবইয়ে। কখনো আবার অভিযোগ করে বলা হয়েছে যে, ‘সনাতনী’ ধর্মাচরণকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বেমালুম বাদ দেওয়া হয়েছে দেশের মুসলমান শাসকদের সময়কার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কেই। আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে মোদি সরকারকে। এই পরিস্থিতি এবার নড়েচড়ে বসছে কেন্দ্র। সেইমতোই শিক্ষামন্ত্রকের পক্ষ থেকে এনসিইআরটি কর্তৃপক্ষকে এব্যাপারে কার্যত কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে যে, নতুন বই ছাপানোর আগে আরও বেশি গবেষণা করতে হবে। প্রয়োজনে আরও বেশি প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। এমনভাবে পাঠ্য পুস্তক প্রকাশ করতে হবে যাতে ছাত্রছাত্রীরা সঠিক বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে পারে। ভারতীয় সংস্কৃতি এবং জাতীয় ঐতিহ্যকে মাথায় রেখেই প্রকাশ করতে হবে পাঠ্য পুস্তক।
এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্র কি তাহলে ঘুরিয়ে ‘সনাতনী ধর্মাচরণ’-এর উপর জোর দিয়েই পাঠ্য পুস্তক রচনা করতে বলছে? যদিও এব্যাপারে সরকারি স্তরে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
মঙ্গলবার দিল্লিতে এনসিইআরটির ৬৬ তম প্রতিষ্ঠা দিবসে হাজির ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী। সেখানে তিনি বলেছেন, স্কুল শিক্ষা এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ তৈরির ক্ষেত্রে এনসিইআরটির ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম। এনসিইআরটিকে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেইমতো এনসিইআরটিকে আরও বেশি আকর্ষণীয়, উদ্ভাবনী, গবেষণালব্ধ এবং ফিউচার-রেডি হতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত কার্যক্রমও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বই প্রকাশের সময় তা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। এমনভাবে পাঠ্য পুস্তক রচনা করতে হবে যাতে, স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের ডিজিটাল সাক্ষরতার ক্ষেত্রে কোনোরকম সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়। স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষভাবে নজর রাখার কথা জানিয়েছে মন্ত্রক। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হতে পারে।