Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

পাকিস্তানে গুলিতে ঝাঁঝরা হাফিজ সইদ ঘনিষ্ঠ জঙ্গি

পাকিস্তানের মাটিতে ফের খতম কুখ্যাত জঙ্গি। জম্মু ও কাশ্মীরে একাধিক হামলায় অভিযুক্ত লস্কর-ই-তোইবা কমান্ডার আবু কাতালকে গুলি করে

পাকিস্তানে গুলিতে ঝাঁঝরা হাফিজ সইদ ঘনিষ্ঠ জঙ্গি
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের মাটিতে ফের খতম কুখ্যাত জঙ্গি। জম্মু ও কাশ্মীরে একাধিক হামলায় অভিযুক্ত লস্কর-ই-তোইবা কমান্ডার আবু কাতালকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দিল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। শনিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ঝিলম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। লস্করের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও ২৬/১১ জঙ্গি হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ছিল এই কাতাল। দুজনের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্কও ছিল। কাতালকে লস্করের চিফ অপারেশনাল কমান্ডারের দায়িত্ব দিয়েছিলেন হাফিজ। এনআইএ সহ বিভিন্ন তদন্তকারী 

Advertisement

সংস্থার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় নাম ছিল তার। গত বছরের জুন মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসিতে পুণ্যার্থীদের বাসে জঙ্গিরা হামলা চালায়। তাতে মৃত্যু হয় ১০ জনের। ওই হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল কাতাল।  সূত্রের খবর, শনিবার দুষ্কৃতীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। তাতে কাতাল ও তার এক দেহরক্ষীর মৃত্যু হয়। আরও একজন রক্ষী গুরুতর আহত হয়েছে। প্রথমে খবর ছড়িয়েছিল, ওই হামলায় হাফিজও গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁকে রাওয়ালপিন্ডির হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও এখনও এই খবরের সত্যতা মেলেনি। কিছুদিন আগেই ভারতীয় নৌসেনার প্রাক্তন কর্মী কুলভূষণ যাদবকে অপহরণে অভিযুক্ত পাক জঙ্গি নেতা মুফতি শাহ মীরকে গুলি করে মেরেছিল দুষ্কৃতীরা।
৪৩ বছর বয়সি আবু কাতালের আসল নাম জিয়া-উর-রহমান। তবে আবু কাতাল. ফয়জল নাদিম ও কাতাল সিন্ধি নামেও পরিচিত ছিল সে। হাফিজ যে সব হামলার পরিকল্পনা করতেন, তা পালনের দায়িত্বে ছিল কাতাল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কুখ্যাত জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কাতালের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সূত্রের খবর, লস্কর জঙ্গিদের পাশাপাশি পাক সেনার একটি দলও কাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। সব সময়ই তাকে ঘিরে থাকত এই বাহিনী। শনিবার দেহরক্ষীদের নিয়েই ঝিলম এলাকায় গিয়েছিল কাতাল। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ দিনা পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালায়ের কাছে একটি হোটেলের সামনে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। সেই সময় গাড়িতে চেপে ফিরছিল কাতাল। দেহরক্ষী থাকা সত্ত্বেও ওই লস্কর জঙ্গিকে লক্ষ্য করে ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি চালায় হামলাকারীরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কাতালকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সেনার নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দুষ্কৃতীরা গুলি চালিয়ে পালাতে সক্ষম হল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
রিয়াসিতে হামলা ছাড়াও ২০২৩ সালে রাজৌরির ধাংরি গ্রামে জঙ্গিরা হামলা চালায়। আইইডি বিস্ফোরণে দুই শিশু সহ সাতজনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় এনআইএ যে চার্জশিট দিয়েছিল তাতে কাতালের নাম ছিল। ওই বছরেই কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় পাঁচজন সেনার মৃত্যু হয়। তাঁদের গলা কেটে দিয়েছিল জঙ্গিরা। সেই হামলার পিছনেও হাত ছিল কাতালের। সূত্রের খবর, ২০০০ সালে সীমান্ত পেরিয়ে জম্মুতে এসেছিল সে। ২০০৫ পর্যন্ত সেখানেই ছিল সে। পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও সিন্ধু প্রদেশে জঙ্গিদের অপারেটর ও লস্করের মধ্যে যোগসূত্রের কাজ করত সে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ