


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বৃহস্পতিবার সকালে হাওড়ার সাঁকরাইলের আলমপুরে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি পিচ তৈরির কারখানায় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত না হলেও দমকল ও পুলিসের তৎপরতায় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে। ওই ঘিঞ্জি এলাকায় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানার ভিতরে পিচ পরিশোধন করার সময় কোনওভাবে বিস্ফোরণ ঘটে এই অগ্নিকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান দমকলের। কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিকঠাক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস ও দমকল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ১১টা নাগাদ আলমপুরের ওই কারখানায় দু’টি লরিতে পিচ লোডিং করা হচ্ছিল। কারখানার ভিতরে তখন কাজ করছিলেন জনা কুড়ি কর্মী। পিচ পরিশোধনের সময় আচমকা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনেন তাঁরা। মুহূর্তে আগুন লেগে যায় সেখানে। কারখানার ভিতরে প্রচুর পরিমাণ পিচ ও কেমিক্যালের মতো দাহ্যবস্তু মজুত থাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কোনওমতে তড়িঘড়ি বাইরে বেরিয়ে আসেন কর্মীরা। গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। খবর দেওয়া হয় পুলিস ও দমকলে। সাঁকরাইল থানার বিশাল পুলিস বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। প্রথমে দমকলের চারটি ইঞ্জিন যায়। কারখানার ভিতরে প্রচুর পিচ মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় দমকল কর্মীদের। জলের পাশাপাশি ফোমও ব্যবহার করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে আরও ছ’টি ইঞ্জিন সেখানে যায়। দুপুর দেড়টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনাস্থলে যান হাওড়ার পুলিস কমিশনার প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী। তিনি বলেন, ‘কীভাবে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হবে।’ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রয়োজনে ফরেন্সিক তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন জেলার ফায়ার অফিসার রঞ্জনকুমার ঘোষ। তিনি বলেন, ‘কারখানায় দমকলের ছাড়পত্র ছিল কি না, সেটা দেখতে হবে। তবে এই ঘটনায় হতাহতের খবর নেই। দমকল কর্মীদের তৎপরতায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।’
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের জেরে ওই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। আশপাশে বেশ কয়েকটি প্লাস্টিকের কারখানা ও একটি স্কুল থাকায় পুলিস দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজে হাত দেয়। নিজস্ব চিত্র