পাটনা: শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শনিবার বিহার বন্ধের ডাক দিয়েছিল আইসা সহ একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। বেলা বাড়তেই রাজ্যের নানা প্রান্তে তা ভয়াবহ আকার নিল। সিওয়ানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে উত্তাল পরিস্থিতি। রাস্তা অবরোধ, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথরবৃষ্টি, গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। উত্তেজিত ছাত্র-যুবদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এরপরই প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশ। সূত্রে খবর, গুলিবিদ্ধ হয় তিন পড়ুয়া। দফায় দফায় সংঘর্ষে জখম হয়েছেন আরও কয়েকজন। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির সামাল দিতে গিয়ে সিওয়ানের পুলিশ সুপার পুরান ঝা সহ একাধিক পুলিশকর্মীও চোট পেয়েছেন।
একইভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ঔরঙ্গাবাদও। পাটনায় পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা। গান্ধী ময়দানে রাম গুলাম চকের কাছে আটক করা হয় জনশক্তি জনতা দলের নেতা তেজপ্রতাপ যাদবকে। জেহনাবাদ, শেখপুরা, সারন, ভাগলপুর, সীতামড়ি, লক্ষ্মীসরাই, পশ্চিম চম্পারন থেকে রোহতাস। ২০টি’র বেশি জেলায় ছড়ায় বিক্ষোভের আগুন। একাধিক জায়গায় বন্ধ ছিল স্কুল। মুজফ্ফরপুরের একাংশে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়। এপর্যন্ত ৩০-৪০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
সারনে একটি সরকারি বাসভবনে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। একাধিক পোস্টারও ছিড়ে ফেলা হয়। সমস্তিপুরে পাটনাগামী রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পথে বসে পড়ে পড়ুয়ারা। সরকার বিরোধী স্লোগান ওঠে। এনিয়ে আইসার বিহার শাখার রাজ্য সভাপতি ধনঞ্জয় বলেন, ছাত্র-যুবদের উপর যেভাবে অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। গুলি চালানোর ঘটনায় সরব হয়েছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়াদের উপর একে-৪৭ বন্দুক থেকে গুলি চালানো হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে বিকেলের দিকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার খবর সামনে আসতেই ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।