নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআরের ‘ক্ষত’ নিয়েই মানুষকে দাঁড়াতে হয়েছে গ্যাসের লাইনে। হেঁশেল চালু রাখতে সিলিন্ডারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সর্বত্র। বিজেপি সমর্থকরা বলে থাকেন, ‘মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়!’ তাই ১৪ তারিখের ব্রিগেড দেখল বাস্তবের বিপরীত চিত্র— বিজেপির সভায় মানুষের জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এলপিজি সিলিন্ডার! বড়ো বড়ো কড়াইতে মাংস-ভাত-ডাল-সবজি একেবারে কষিয়ে রান্না হচ্ছে গ্যাসের উনুনে। ম্যাটাডর ভরতি সিলিন্ডারও দেখা গেল। এত সিলিন্ডার এল কোথা থেকে? মধ্যবিত্তের কাছে এই প্রশ্ন খুব কঠিন হলেও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের জন্য খুবই সহজ! তাঁরা বললেন, পার্টি ব্যবস্থা করে দিয়েছে। কেউ বললেন, একটু বেশি খরচ হয়েছে।
মধ্যবিত্ত গেরস্থ হোক বা ছোটো-বড়ো রেস্তরাঁ, গত কয়েকদিন ধরে সর্বত্র গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট। বিজেপির ব্রিগেডে অবশ্য সেই সংকটের কোনো ছাপ নেই। ইডেন গার্ডেন্সের সামনে চাঁদোয়া খাটিয়ে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল বিজেপি। এই আয়োজন একেবারেই ‘সনাতনী’। কারণ, মেনুতে ছিল ডাল-ভাত-সবজি। সঙ্গে ওড়িশার খাবার ডালমা। ১ লক্ষেরও বেশি ‘দেবতুল্য কার্যকর্তা’ এখানে ‘ভোজন’ করেছেন বলে খবর। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন গণেশ পাণ্ডে নামে এক ব্যক্তি। সিলিন্ডারের প্রশ্ন শুনে তিনি বলেন, ‘পার্টি ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’ তবে জেলার কর্মী-সমর্থকদের পাতে ছিল মাংস-ভাত। ঘাটালের বিজেপি কর্মী প্রশান্ত মণ্ডল বলছিলেন, ‘৫৫ জন এসেছি। ১০ কেজি মাংস আর ১৫ কেজি ভাত রান্না হয়েছে। আমাদের ওখানে গ্যাসের কোনো সমস্যা নেই। নিজের গ্যাঁটের টাকা খরচ করে এসেছি।’
‘একটু নুন লাগবে...’—রান্না শেষের আগে ঝোল চেখে এমনই নির্দেশ দিচ্ছেন পলাশিপাড়ার এক বিজেপি কর্মী। রান্না শেষে খাওয়া। খাওয়া শেষে দু’টি বাসের মাঝে ছায়ায় ঘুম। কেউ কেউ আবার গাছের ছায়ার জমাট আসরে গলায় ‘দাদা’ ঢেলে পরিবর্তনের সংকল্প নিলেন। ঠান্ডা জল তো বিক্রি হচ্ছেই, চিপসও রয়েছে। মনোরম পরিবেশে ঢুলু ঢুলু চোখে আলোচনা, ‘আব তো বিজেপিই আয়েগা’! ব্রিগেডে ভিড় বাড়ানোর জন্য ভিন রাজ্যের বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা এদিন যোগ্য সঙ্গত করেছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, বরাকর থেকে হাওড়া স্পেশাল ট্রেন দেওয়া হয়েছিল। সেই ট্রেনে বিহার-ঝাড়খণ্ডের বহু মানুষ এসেছিলেন। সূত্রের খবর, গোপীবল্লভপুর বাজার থেকে ৯টি গাড়ি রওনা দেয় শুক্রবার রাতে। সেখানে ওড়িশার বাসিন্দারাও ছিলেন। লোক আনার জন্য এজেন্সি ঠিক করা হয়েছিল। ওড়িশা থেকে অটো-টোটো করে প্রথম স্টপ ছিল নয়াগ্রামের খড়িকা। সেখান থেকে ৮৫টি বাস আসে। ঝাড়খণ্ড থেকে চিচিড়া চেকপোস্ট পেরিয়ে জাতীয় সড়ক হয়ে টেম্পো, ম্যাটাডর করে লোক নিয়ে আসা হয়েছে। এত লোকজনের বেশিরভাগই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণ চলাকালীন মাঠ ছাড়লেন। তার আগে পেট পুরে মাংস-ভাত খেলেন। কয়েক মাস আগে গেরুয়া শিবিরের গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তিকে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করার জন্য মারধর করা হয়েছিল। শনিবার সেই মাঠেই গেরুয়া ফেট্টি বেঁধে হল মুরগি রান্না। অদ্ভুত সমাপতন!