Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআরকে কেন্দ্র করে পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে উত্তেজনা

পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে বিজেপি নেতারা তাদের সঙ্গেও ধস্তাধস্তি শুরু করে দেয়।

এসআইআরকে কেন্দ্র করে পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে উত্তেজনা
  • ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান ও সংবাদদাতা, কাটোয়া: এসআইআরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকায়। শনিবার দুপুরে বিজেপি নেতারা ফরম-৭ জমা দিতে এসে মহকুমা শাসকের দপ্তরে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে। তৃণমূলের সঙ্গে তারা বচসায় জড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে বিজেপি নেতারা তাদের সঙ্গেও ধস্তাধস্তি শুরু করে দেয়। পরে পুলিশ ধাক্কা দিয়ে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। চারজনকে আটক করে নিয়ে যায়।

Advertisement

গ্রাম থেকে শুনানি কেন্দ্র ১০কিমি দূরে। সেখানে বয়স্ক সহ সাধারণ মানুষজনকে ডেকে নিয়ে গিয়ে এসআইআরের নামে হয়রানি করা হচ্ছে। তাই গ্রামের বুথে বুথে শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে। সেই দাবিতে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মঙ্গলকোটের কুলশুনা, মাথরুন এলাকার কাটোয়া-নতুনহাট রোড অবরোধ করে স্তব্ধ করে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকী, রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে তাঁরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। যদিও দুপুরে মঙ্গলকোট ব্লকের যুগ্ম বিডিও, থানার আইসি গিয়ে বুঝিয়ে অবরোধ তোলেন। মঙ্গলকোটের বিডিও অনামিত্র সোম বলেন, আমরা বাসিন্দাদের আবেদন শুনেছি। তা জেলা প্রশাসনকে জানাব। শুনানির নোটিস পেয়ে বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা ক্ষোভে ফুঁসছেন। তাঁরা বলছেন, কারও ছয়ের বেশি সন্তান থাকলেই শুনানির নাম করে ডেকে হয়রান করা হচ্ছে। অনেকেই শয্যাশায়ী। তাঁরা ১০কিমি দূরে শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে কীভাবে লাইনে দাঁড়াবেন? তাই প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ, অবরোধ চলছে। সারাদিন অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

এদিন মঙ্গলকোটের কুলশুনা গ্রামের বাসস্ট্যান্ডে সকাল থেকে অবরোধ শুরু হয়। কাটোয়া-নতুনহাট রোড অবরোধ করে সেখানে টায়ার জ্বালানো হয়। যান চলাচল একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার জেরে সাধারণ মানুষকেও দিনভর সেখানে নাকাল হতে হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসী ইসমাইল মল্লিক, বলেন, গ্রামে পাঁচটি বুথ রয়েছে। ১৬৫ থেকে ১৬৯ পর্যন্ত বুথগুলিতে প্রায় অর্ধেক ভোটারের নামে শুনানির নোটিস এসেছে। অপর বাসিন্দা মসিরুদ্দিন মল্লিক বলেন, আমার ভাইপো আতাউল ইসমাইল মল্লিকের চার ছেলে রয়েছে। তাঁদের নামে নোটিস এসেছে। ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নোটিস পাঠিয়ে হয়রান করা হচ্ছে। আমরা চাই গ্রামের বুথে বুথে শুনানি করা হোক। না হলে আমরা অবরোধ চালিয়ে যাব। স্থানীয় বাসিন্দা লায়লি খাতুন বলেন, দু’বার করে কেন নোটিস করা হচ্ছে বুঝতে পারছি না। এভাবে চক্রান্ত করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে কমিশন। আমরা বিডিও অফিসে যাব না।

পাশাপাশি, মাথরুন বাসস্ট্যান্ডেও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। তাঁরাও একই দাবিতে সরব হন। গ্রামে ১১৭, ১১৮, ১১৯ নম্বর মিলিয়ে মোট তিনটি বুথ রয়েছে। বাসিন্দারা বুথে বুথে শুনানি করার জন্য প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে লিখিত আবেদন জানান। এদিন দুপুরে অবরোধ ওঠে। অবরোধের জেরে অনেকেই হয়রানির শিকার হন। পথচারী তাপস গড়াই বলেন, মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। অবরোধের জেরে বাইক আটকে দেয়। বাচ্চা মেয়েটা না খেয়ে দুপুর পর্যন্ত ঠাঁই দাঁড়িয়েছিল। অপর পথচারী মিতালি হাজরা, উদয়চাঁদ হাজরা বলেন, আমরা গঙ্গাস্নানের জন্য কাটোয়া যাচ্ছিলাম। অবরোধের জেরে কয়েক ঘণ্টা বাসেই বসে থাকতে হল। পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল। অথচ কোনও ব্যবস্থা নিল না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ