সংবাদদাতা, বোলপুর: পুজোর পর থেকে বৃষ্টির দেখা নেই। তার উপর সেচের জলের টান। দুইয়ের জেরে বিপাকে বীরভূমের আমন ধানচাষিরা। নানুর ও লাভপুরের পাশাপাশি বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের সুরুল, মহিদাপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জলের অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের জমি। কোথাও মাটিতে ফাটল ধরেছে। কোথাও ব্যাহত হচ্ছে ধানগাছের বৃদ্ধি। দ্রুত সেচের জল না মিললে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
জেলার বহু কৃষক আমন ধানের পরিচর্যার জন্য সেচখালের জলের উপর নির্ভরশীল। ময়ূরাক্ষী সাউথ ক্যানাল ডিভিশনের প্রধান সেচখাল দিয়ে জল সরবরাহ হলেও তা সব এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পৌঁছচ্ছে না বলে অভিযোগ। নানুরের ইন্দাস অঞ্চলে প্রধান সেচখাল থেকে শাখা খালে পর্যাপ্ত জল আসছে না বলে দাবি কৃষকদের। ইন্দাস, চাতরা, কাদোয়া সহ বিভিন্ন মৌজায় তার প্রভাব পড়েছে। একই সমস্যা বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের সুরুল, মহিদাপুর সহ বিভিন্ন এলাকাতেও। বিঘার পর বিঘা জমি জলের অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে।
সুরুল এলাকার কৃষক সুনীল মণ্ডল বলেন, প্রধান ক্যানেলে জল থাকলেও সেখান থেকে শাখা ক্যানেলে পর্যাপ্ত জল আসছে না। ফলে জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। অনেক ধারদেনা করে চাষ করেছি। অনেকে আবার ভাগে জমি নিয়ে চাষ করেছেন। এখন ধান নষ্ট হলে ঋণ শোধ করব কী করে? সময়মতো জল না পেলে আমাদের বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
নানুর-লাভপুরের কৃষকদের অভিযোগ, শাখা খালের বিভিন্ন অংশে আগাছা জমেছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জল চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। ইন্দাসের কৃষক প্রভাতরঞ্জন ঘোষ বলেন, জলের অভাবে জমি শুকিয়ে ফাটল ধরেছে। দ্রুত সেচখাল সংস্কার না হলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। গত বছর টুংরো ভাইরাসের আক্রমণে আমন ধানের ফলন মার খেয়েছিল। এ বার জলের অভাবে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, জল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেচখাল ও শাখা খালের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। যেখানে জল সরবরাহে সমস্যা রয়েছে, সেখানে খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে কৃষিজমিতে জল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।



