হাওড়ায় বিজেপির দুই মণ্ডলের টানাপোড়েন,  আসন্ন পুরভোটে পাখির চোখ ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড
  • ২ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পুরসভা ভোটের দামামা বাজার আগেই টিকিট নিয়ে বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। তাও আবার হাওড়ার অবশিষ্ট শিল্পাঞ্চল বলে পরিচিত ইছাপুরের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে। ইতিমধ্যেই এই এলাকায় শিবপুরের দুই মণ্ডলের গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। অন্যদিকে, শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলিকে ঘিরে নতুন করে তোলাবাজির অভিযোগ ওঠায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী বাছাই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Advertisement

এক সময় ‘প্রাচ্যের শেফিল্ড’ হিসাবে পরিচিত ছিল হাওড়া। বালিটিকুরি, দাশনগর, ইছাপুর, বেলিলিয়াস লেনের মতো এলাকায় ছড়িয়ে ছিল অসংখ্য ছোটো-বড়ো লোহা ও ঢালাই কারখানা। শিল্পের বেহাল দশায় সেই পরিচিতি অনেকটাই ফিকে হলেও শহরের অবশিষ্ট শিল্পাঞ্চল বলতে এখনও এই এলাকাকে বোঝানো হয়। ইছাপুরের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে বহু লেদ মেশিন, ফাউন্ড্রি, মেটাল কাস্টিং ইউনিট। পাশাপাশি রেলের যন্ত্রাংশ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরির ছোটো কারখানাও রয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই কারখানাগুলিকে কেন্দ্র করে তোলাবাজির কারবার চলছে। তৃণমূল আমলে শাসকদলের একাংশের চাপে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। ১৩ বছর পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় কাউন্সিলারহীন এই ওয়ার্ডে তোলাবাজি আরও বেড়েছিল বলে দাবি স্থানীয় মহলের। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে সরকার পরিবর্তনের পর কিছুদিন এই কারবার বন্ধ থাকলেও ফের রেট বাড়িয়ে টাকা তোলা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপুজোয় শিবপুরে বিজেপির দুই মণ্ডলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ সামনে আসে। শিবপুর ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতির দাদা তথা একটি কারখানার মালিককে চাঁদার জুলুমের অভিযোগে মারধর করা হয়। অভিযোগের তির শিবপুর ২ নম্বর মণ্ডলের সভাপতির মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীদের দিকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, শিল্পাঞ্চলে তোলাবাজির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেই বিবাদ থেকেই এই সংঘর্ষ। পাশাপাশি পুরভোটে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের টিকিট কার দখলে যাবে, তা নিয়েও দুই মণ্ডলের মধ্যে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। প্রসঙ্গত, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পর পুরানো ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডটি এখন ১৪ নম্বর ওয়ার্ড। শিবপুর ২ নম্বর মণ্ডলের আওতায় রয়েছে ১০, ১৪, ১৫, ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড। শিবপুর ৩ নম্বর মণ্ডলের অধীনে ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪ ও ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড। দুই মণ্ডল সভাপতির অবশ্য বক্তব্য, যোগ্যতার নিরিখেই দল প্রার্থী বাছাই করবে।
শিবপুর ২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি রাজা মালের কথায়, উচ্চ নেতৃত্ব সমীক্ষা করছে। কাজ দেখেই প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মণ্ডলের প্রত্যেক কার্যকর্তাই তাঁর নিজের লোক। তাই টিকিট নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। শিবপুর ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি পল্লব ছড়ির বক্তব্য, দল যাঁকে যোগ্য মনে করবে, তাঁকেই টিকিট দেবে। তাঁকে যোগ্য মনে করলে তিনি লড়বেন, অন্য কাউকে প্রার্থী করা হলে তাঁর হয়েই কাজ করবেন। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের নাম নেতৃত্বকে জানিয়েছেন বলেও দাবি তাঁর। জেলা সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্যের বক্তব্য, বিজেপির আদর্শ মেনে যিনি সাধারণ মানুষের পরিষেবার জন্য লড়াই করবেন, দল তাঁকেই যোগ্য মনে করে টিকিট দেবে। কার্যকর্তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দলের মতাদর্শে প্রভাব ফেলবে না।