Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সরশুনায় বাড়ির পিছনে ভাড়াটের গলা কাটা মৃতদেহ উদ্ধার, খুনের মামলা রুজু

বাড়ির পিছনের ফাঁকা জমি। সেখানেই চিৎ হয়ে পড়ে রয়েছে ভাড়াটে যুবকের গলা কাটা দেহ। মুখের উপর ক্ষতচিহ্ন। শুক্রবার রাতে সরশুনা থানা এলাকার বাগপোতায় ঘটনাটি ঘটেছে।

সরশুনায় বাড়ির পিছনে ভাড়াটের গলা কাটা মৃতদেহ উদ্ধার, খুনের মামলা রুজু
  • ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাড়ির পিছনের ফাঁকা জমি। সেখানেই চিৎ হয়ে পড়ে রয়েছে ভাড়াটে যুবকের গলা কাটা দেহ। মুখের উপর ক্ষতচিহ্ন। শুক্রবার রাতে সরশুনা থানা এলাকার বাগপোতায় ঘটনাটি ঘটেছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক ইঙ্গিতের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম ভোলানাথ বিশ্বাস (৩৯)। কেন খুন? কে খুন করল ওই যুবককে? দুই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। শনিবার রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। 

Advertisement

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘটকপুকুরের বাসিন্দা ভোলানাথ। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। পাশাপাশি, ঠিকাদারের অধীনে অন্যান্য কাজকর্মও করতেন ওই যুবক। ২০২০ সাল থেকে সরশুনার বাগপোতা ফার্স্ট বাই লেনের বাড়িতে ভাড়া থাকছিলেন। বাড়িওয়ালার নাম চূড়ামণি নস্কর। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাতে আচমকা ছোটো ছেলে দেখতে পায় বাড়ির পিছনের দিকে পড়ে রয়েছে ভোলানাথ। চিৎকার করে ওঠে ছেলে। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটাল? আমরা তো কিছু বুঝতেই পারছি না।’ সংশ্লিষ্ট পরিবারের তরফে থানায় ফোন করে গোটা বিষয়টি জানানো হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সরশুনা থানা। দেহ উদ্ধার করে বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখার টিম। একইসঙ্গে, স্নিফার ডগ যায় আততায়ী শনাক্তকরণের জন্য। গোটা জায়গাটির ভিডিয়োগ্রাফি করা হয়। বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। 
শনিবার ভোলানাথের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, মৃতের শরীরে মোট তিনটি ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে নিখুঁতভাবে গলা কাটা হয়েছে ভোলানাথের। গলায় দু’টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু, মৃতের দেহে ধস্তাধস্তির চিহ্ন বা ‘রেজিস্টেন্স মার্ক’ নেই। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আততায়ী ভোলানাথের পরিচিত কেউ হতে পারে। কিন্তু, কে সে? তা নিয়ে ধন্দে পুলিশ। ওই বাড়ির আশপাশে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। তার জেরে রাত পর্যন্ত আততায়ীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। বাড়িওয়ালা চূড়ামণিদেবীর ছেলে পলাশ নস্কর সরশুনা থানায় খুনের মামলা রুজু করেছেন। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ। পলাশের বলেন, ‘মূল বাড়ির পাশে একটি সরু গলি রয়েছে। ভোলানাথের ঘরে যেতে হলে সেই গলি দিয়ে যেতে হয়। রাতে ওই গলিতে কাঠের পার্টিশন দিয়ে দিই। সেটা দিতে গিয়ে ভোলানাথকে পড়ে থাকতে দেখি। ও বাড়িতে একা থাকত। কেউ কোনোদিন ওর ঘরে আসত না।’ তাহলে কী জন্য এই খুন? খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ