সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: থিমের লড়াই! এবার পুজোয় কোনো ক্লাবের ভাবনা ‘অন্তরদর্শন’। মেরিটেশন হলের আদলে তৈরি মণ্ডপে থাকবে ধ্যানমগ্ন দুর্গা প্রতিমা। আবার কোনো ক্লাবের থিম-‘আমি’! দাম্পত্য কলহে জেরবার পরিবারের শিশুদের প্রশ্ন নিয়েই এমন নিবেদন। কোথাও আবার থিম-‘প্রত্নকথা’। প্রাচীন মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরের দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা হবে অজন্তা ও ইলোরা গুহার ভাস্কর্য। এখানেই কিউআর কোড স্ক্যান করে সেই গুহাগুলির ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। এমন অভিনব ভাবনায় পুজো মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে শিলিগুড়ি শহরের সুভাষপল্লি, রবীন্দ্রনগর ও রথখোলায়।
শিলিগুড়ি শহরের বড়ো পুজো কমিটিগুলির মধ্যে সঙ্ঘশ্রী অন্যতম। শহরের সুভাষপল্লির এই ক্লাব বরাবরই থিম পুজো করে। এবার এখানকার পুজোর ৬০তম বর্ষ। হীরক জয়ন্তী বর্ষে এদের নিবেদন ‘অন্তরদর্শন’। মণ্ডপের শান্ত পরিবেশেই ধ্যানমগ্ন অবস্থায় দেখা যাবে দশভুজাকে। ক্লাবের সদস্য শৈবাল দত্ত বলেন, বর্তমানে শিক্ষা, সংসার, কর্মক্ষেত্র সর্বত্রই একাংশ সর্বদা টেনশনে ভুগছেন। মানসিক অবসাদের জেরে তাঁরা একসময় বিপদগামী হন। এমন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার বার্তা দিতেই এমন থিম গড়া হচ্ছে।
শহরের আরএকটি উল্লেখযোগ্য পুজো কমিটি রবীন্দ্র সংঘ। রবীন্দ্র নগরের এই পুজো কমিটিও দীর্ঘদিন ধরে থিম পুজো করছে। এবার এখানকার পুজোর ৭৪তম বর্ষ। এদের থিম-‘আমি’! এখানে বিচারকের ভূমিকায় থাকবে দেবী দুর্গা। ক্লাবের মুখপাত্র উদয়ন দাশগুপ্ত বলেন, দাম্পত্য কলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ ও শিশুর অবস্থা নিয়েই এই ‘আমি’ থিম। বিচারকের আসনে থাকবে দশভুজা।
এর পাশেই রথখোলা স্পোর্টিং ক্লাব। পুজোর ৬১তম বর্ষে এদের নিবেদন ‘প্রত্নকথা’। পুজো কমিটির বিজ্ঞাপন কনভেনার অমিত ঘোষ বলেন, অজন্তা-ইলোরা গুহার নিদর্শন মণ্ডপের ভিতরের ও বাইরের দেওয়ালে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে। থাকবে কিউআর কোড। মোবাইল ফোনে তা স্ক্যান করে অজন্তা, ইলোরার গুহার ভাস্কর্যের ইতিহাস জানতে পারবেন দর্শনার্থীরা। মণ্ডপে থাকবে মানানসই দুর্গা প্রতিমা। • রথখোলার মণ্ডপের কাজ চলছে। - নিজস্ব চিত্র।