Bartaman Logo
৫ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাতদিনের ব্যবধানে ভূতনিতে ফের জলমগ্ন থানা, আলাদিয়ায় ভাঙন পুরনো রিংবাঁধে

মাত্র সাতদিনের ব্যবধান। ত্রাণ শিবির থেকে মানুষ বাড়ি ফিরে ঘর গোছানো শুরু করেছে

সাতদিনের ব্যবধানে ভূতনিতে ফের জলমগ্ন থানা, আলাদিয়ায় ভাঙন পুরনো রিংবাঁধে
  • ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানিকচক: মাত্র সাতদিনের ব্যবধান। ত্রাণ শিবির থেকে মানুষ বাড়ি ফিরে ঘর গোছানো শুরু করেছে। এর মধ্যে ফের গঙ্গার জল ঢুকে বন্যা পরিস্থিতি ভূতনি এলাকায়। মানিকচকের ভূতনি থানা কার্যত জলমগ্ন। ভূতনি হাসপাতালের দুয়ারে পৌঁছেছে গঙ্গার জল। নতুন করে উত্তর চণ্ডীপুরের আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত। আলাদিয়া গ্রামে পুরনো রিংবাঁধের প্রায় ১০০ মিটার জলের স্রোতে ভেসে গিয়েছে। ফের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় ত্রাণ শিবির খোলার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

Advertisement

মানিকচকে গত চারদিন ধরে বাড়ছে গঙ্গার জলস্তর। ইতিমধ্যে আগ্রাসী গঙ্গা বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যেই উত্তর চণ্ডীপুরের একের পর এক গ্রাম ফের জলমগ্ন। অনেক রাস্তা দিয়ে জল বয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, রবিবার পর্যন্ত ১৪-১৫ টি গ্রাম জলমগ্ন। তবে বর্তমানে রাস্তার উপরে জল থাকলেও ঘরের মধ্যে ঢোকেনি।
ভূতনি থানা আবারও জলমগ্ন হয়েছে। প্রায় হাঁটুজল জমেছে থানার ভেতর। হঠাৎ জল ঢোকায় থানার ভেতরের বহু জিনিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আটকে পড়েছে একটি গাড়ি সহ আধিকারিকরা। ভূতনির দিয়ারা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাইরেও জল। আগামী ২৪ ঘণ্টায় একইভাবে জল বাড়লে হাসপাতালের ভিতরে জল ঢুকে যাবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
এই পরিস্থিতিতে নজরদারি বাড়িয়েছে মানিকচক ব্লক প্রশাসন। বিভিন্ন জায়গায় স্পিড বোটের মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছে সিভিল ডিফেন্স। প্রয়োজনে  দুর্গতদের ত্রাণ শিবিরে আসারও পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, পাটনায় জলের স্তর বাড়ায় এই পরিস্থিতি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবারও ত্রাণ শিবির খোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে প্রতিনিয়ত নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে আগামী দু’দিনে পরিস্থিতি বদলাবে। 
উত্তর চণ্ডীপুরের আলাদিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিটার পুরনো রিংবাঁধ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, রিংবাঁধ ছাড়িয়ে ফুলহার নদী প্রবেশ করছে গ্রামের দিকে। যদিও ফুলহার নদীর জলস্তর কম থাকায় জল ঢোকার সম্ভাবনা নেই। তাসত্ত্বেও নদী ভাঙনের ভয়াবহতা দেখে নিজেদের বাড়ি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে প্রায় ৫০টি পরিবার ইতিমধ্যে গ্রাম ছেড়েছে। তবে সেচ দপ্তরের কাজের পরেও ভাঙন প্রতিরোধ করতে না পারায় শেষপর্যন্ত হাত লাগাতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। নদী তীরবর্তী এলাকায় থাকা বিভিন্ন গাছপালা নিজেরা কেটে বেঁধে নদীতে ফেলতে শুরু করেছেন তাঁরা। যার ফলে কিছুটা হলেও ভাঙন প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ