সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর বিষ্ণুপুর পুরসভায় অচলাবস্থা চলছে। এই অবস্থায় সোমবার বকেয়া বেতনের দাবিতে সোমবার বিষ্ণুপুর পুরসভার বিভিন্ন দপ্তরের অস্থায়ী কর্মীরা আন্দোলনে নামেন। অবিলম্বে তাঁরা বেতন প্রদানের দাবিতে সরব হন। পাশাপাশি পুরসভার অচলাবস্থা কাটাতে অবিলম্বে প্রশাসক বসানোর দাবি তোলেন। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, একই দাবিতে কয়েকদিন আগে পুরসভার সাফাই কর্মীরা আন্দোলনে নামেন। তাঁরা মিছিল করে পুরসভা ও মহকুমা শাসকের কাছে বেতন দেওয়ার দাবি জানান। তার জের মিটতে না মিটতেই এবার পুরসভার অন্যান্য দপ্তরের অস্থায়ী কর্মচারীরাও আন্দোলনের পথে পা বাড়ালেন। সোমবার তাঁরা পুরসভার মূল প্রবেশপথের সামনে জড়ো হয়ে বকেয়া বেতনের দাবি তোলেন। এমনকি এভাবে চলতে থাকলে তাঁরা আগামী কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দেন। পুরসভার আধিকারিকরা এনিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি আলোচনার স্তরে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের পক্ষে অসিত শর্মা বলেন, বিষ্ণুপুর পুরসভায় প্রায় আড়াইশো অস্থায়ী কর্মচারি রয়েছেন। তাঁরা অধিকাংশই সামান্য বেতনে কাজ করছেন। প্রায় দু’মাস হতে চলল। এখনও পর্যন্ত বেতন দেওয়া হয়নি। পুরসভার আধিকারিকদের বারবার বলা হয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান না থাকায় তাঁরা বেতন দিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। আর এতেই ক্ষোভে ফুঁসছেন কর্মচারিরা। এদিন আমরা আন্দোলন শুরু করেছি। কয়েকদিনের মধ্যে বেতন না পেলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।
আন্দোলনকারী দিব্যেন্দু শেখর দে বলেন, অস্থায়ী কর্মচারীদের প্রায় প্রত্যেকেই পুরসভার বেতনের উপর নির্ভরশীল। তা না পাওয়ায় সংসার চালাতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। দোকানে ধার বাকি পড়ে গিয়েছে। ভীষণ সমস্যার মধ্যে কর্মচারিরা কাজ করছেন। এভাবে চলতে আমরা কর্মবিরতির পথে যেতে বাধ্য হবো।
প্রসঙ্গত,কিছুদিন আগে বাঁকুড়া জেলার তিন পুরসভাতেই চেয়ারম্যানরা পদত্যাগ করেন। তার মধ্যে বিষ্ণুপুর পুরসভার একই সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যানও পদত্যাগ করেন। বাঁকুড়া ও সোনামুখীতে প্রশাসক বসানো হয়েছে। কিন্তু বিষ্ণুপুর পুরসভায় তা হয়নি। এই অবস্থায় বিষ্ণুপুর পুরসভা কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এবং অস্থায়ী কর্মচারিদের বেতন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন। কয়েকদিন আগে পুরসভার সাফাই বিভাগের কর্মচারিরা পৃথকভাবে আন্দোলন করেছেন। আর এদিন পুরসভার জল, বিদ্যুৎ, ট্যাক্স সহ বিভিন্ন বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা একত্রিত হয়ে আন্দোলনে নামেন।