নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, খাতড়া: আজ, মঙ্গলবার বাঁকুড়া সফরে আসছেন মুখমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী জঙ্গলমহলে পা রাখছেন। মুকুটমণিপুরের একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়ের মাঠে রাজ্যস্তরের হুল দিবস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন শুভেন্দুবাবু। মুখমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে সোমবার তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। আধিকারিকদের নিয়ে জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত ও পুলিশ সুপার পিভিজি সতীশ দফায় দফায় বৈঠক করেন। জেলাশাসক বলেন, হুল দিবসের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সারা হয়েছে। বাঁকুড়ার বিভিন্ন প্রান্ত ও আশপাশের জেলা থেকে প্রায় ১৫হাজার মানুষ হুল দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেবে। আদিবাসী শিল্পীর সংখ্যা তারমধ্যে বেশি থাকবে। তারজন্য ২৫০টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী মুকুটমণিপুর জলাধার সংস্কার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন। সাংসদ বলেন, চিকিৎসার জন্য বাইরে রয়েছি। জেলায় থাকলে আমি হুল দিবসের অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতাম। মুকুটমণিপুর জলাধারের গভীরতা বাড়ানোর জন্য তাঁর কাছে আবেদন করতাম। এর আগে আমি বিষয়টি নিয়ে সংসদ ও পূর্বতন সরকারের সেচদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। কিন্তু, আগের সরকার ওই কাজ করেনি। সেকারণে ২০জন সাংসদ এনডিএকে সমর্থন করেছে। ডবল ইঞ্জিন সরকার ওই ড্যামের গভীরতা বাড়ালে আরও অন্তত ২০টি পঞ্চায়েত এলাকার চাষিরা সেচের জল পাবেন। এলাকায় দু’বার চাষের জন্য পর্যাপ্ত জল পাওয়া যাবে।
হুল দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য বিশাল সভাস্থল ও শেড তৈরি করা হয়েছে। আকাশপথে মুখ্যমন্ত্রী মুকুটমণিপুরে স্থায়ী হেলিপ্যাডে এসে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সড়কপথে সভাস্থলে যাবেন। এদিন হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টার নামার ট্রায়ালও হয়। প্রশাসনিক আধিকারিকতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দফায় দফায় জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকরা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হেলিপ্যাড ও আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত কড়া করা হয়েছে। সভাস্থলও নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে এলাকার কৃতী ছাত্র-ছাত্রী, বিশিষ্ট আদিবাসী ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের গুনীজনদের সংবর্ধনা ও সম্মান জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি থাকছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা ঘিরে উৎসাহ তুঙ্গে উঠেছে। এবারের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই বীর শহিদ সিধু-কানুর নতুন মূর্তি। মুকুটমণিপুর পর্যটন কেন্দ্রে স্থাপিত এই মূর্তির আবরণ উন্মোচন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে একলব্য বিদ্যালয়ের মাঠের পাশাপাশি গোড়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠেও তৈরি হয়েছে বড়ো প্যান্ডেল। বসানো হয়েছে অস্থায়ী শৌচালয়, সাজিয়ে তোলা হচ্ছে গোটা পর্যটন কেন্দ্র।