Bartaman Logo
৩০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘ডিম থেরাপি’র ভয়? জেলা পরিষদে দেখা নেই কাজলের

বীরভূম জেলা পরিষদে সভাধিপতি কাজল শেখের অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ। উন্নয়ন আটকে, বিজেপির দাবি—ডিম থেরাপির কারণে আসছেন না। বিস্তারিত পড়ুন।

‘ডিম থেরাপি’র ভয়? জেলা পরিষদে দেখা নেই কাজলের
  • ৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: তাঁর মুখে শুধুই শোনা যেত উন্নয়নের বাণী! অথচ সেই তিনি সভাধিপতি হয়েও এখন জেলা পরিষদে দিনের পর দিন গরহাজির। রাজ্যজুড়ে চলা ডিম থেরাপির আতঙ্কে তিনি আসছেন না বলে দাবি বিভিন্ন মহলের। এনিয়ে কটাক্ষও করতে ছাড়ছে না বিজেপি। যার ফলে সামগ্রিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বীরভূমবাসী। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। অথচ ভোট মিটে যাওয়ার পর প্রায় দু’ মাস হতে চললেও বীরভূম জেলা পরিষদে দেখা নেই স্বয়ং সভাধিপতি কাজল শেখের! দেখা মিলছে না তাঁর অনুগামী কর্মাধ্যক্ষদেরও। 

Advertisement

বিধানসভা নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি জারির আগে, অর্থাৎ সেই মার্চ মাসে জেলা পরিষদের বিভিন্ন স্থায়ী সমিতির শেষ বৈঠক হয়েছিল। তারপর থেকে দীর্ঘ প্রায় তিনমাস কোনো বৈঠকই বসেনি। জনপ্রতিনিধিদের এই নজিরবিহীন অনুপস্থিতি এবং স্থায়ী সমিতির বৈঠক না হওয়ায় বীরভূম জেলার গ্রামীণ উন্নয়নের চাকা কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এই নজিরবিহীন অচলাবস্থা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি দীপক দাসের দাবি, ‘সভাধিপতি সহ কর্মাধ্যক্ষরা জেলা পরিষদে না আসায় মানুষ সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁরা মানুষের রায়ের প্রতি অবিচার করছেন। হয় তাঁরা অবিলম্বে নিজেদের সরকারি দায়িত্ব পালন করুন, অন্যথায় চেয়ার ছেড়ে দিন।’
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, চলতি মাসের শুরুতেই পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় ৭ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা জেলা পরিষদের তহবিলে ঢুকেছে। গ্রামীণ এলাকার পানীয় জল, রাস্তাঘাট ও নিকাশি ব্যবস্থার মতো অত্যন্ত জরুরি পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী সমিতির বৈঠক এবং সভাধিপতির চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদন ছাড়া এই কোষাগারের টাকা খরচ করা সম্ভব নয়। ফলে তহবিলে কোটি কোটি টাকা পড়ে থাকলেও, জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির কারণে তার সদ্ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
প্রশাসনিক মহলের মতে, জেলা পরিষদের সমস্ত কমিটির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী হল ‘অর্থ, সংস্থা, উন্নয়ন ও পরিকল্পনা স্থায়ী সমিতি’। পদাধিকারবলে এই সমিতির মাথায় রয়েছেন স্বয়ং সভাধিপতিই। জেলা পরিষদের যে কোনো উন্নয়নমূলক কাজের চূড়ান্ত বাজেট পাস, বড় অঙ্কের আর্থিক মঞ্জুরি এবং তহবিল বণ্টনের মূল চাবিকাঠি থাকে এই অর্থ স্থায়ী সমিতির হাতেই। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, দীর্ঘ তিন মাসের বেশি সময় ধরে জেলা পরিষদের মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ অর্থ স্থায়ী সমিতির একটি বৈঠকও করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা পরিষদের অর্থ সহ অন্যান্য স্থায়ী সমিতিগুলির বৈঠক না হওয়ায় একাধিক নতুন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া পুরোপুরি আটকে রয়েছে। বর্ষার মরশুম শুরু হয়ে গেলেও গ্রামীণ এলাকার নদীবাঁধ মেরামত বা আপৎকালীন কোনো পরিকল্পনাই করা যায়নি।
কিন্তু কেন আসছেন না সদ্য ‘নতুন তৃণমূলে’ যাওয়া কাজল শেখ? উত্তর জানতে জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। কাজলের অনুগামী বলে পরিচিত পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নূরুল ইসলামের ফোনও সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। অন্যান্য কর্মাধ্যক্ষদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, হয় কেউ ফোন তোলেননি, অথবা তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া গিয়েছে। এই রহস্যময় অন্তর্ধান নিয়ে বিজেপির দাবি, জেলা পরিষদে এলেই সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের হাত থেকে ‘ডিম থেরাপি’ জুটতে পারে তাঁদের কপালে। জেলা পরিষদকে যেভাবে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে এতদিন কর্মীদের ওপর ‘থ্রেট কালচার’ চালিয়েছেন তাঁরা, তাতে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটার ভয়েই এখন কার্যালয়মুখো হচ্ছেন না এই নেতারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ