শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: প্রাইভেট টিউশনি না করার বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ৯৫৬টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহ-শিক্ষকদের মুচলেকা দিতে হবে। তাতে লেখা থাকবে, ‘আমি ঘোষণা করছি যে, আমি কোনোরকম প্রাইভেট টিউশনির সঙ্গে যুক্ত নই’। মুচলেকায় শিক্ষক ও স্কুলের নাম এবং ওই শিক্ষক যে বিষয় পড়ান, তার উল্লেখ থাকতে হবে। মুচলেকা দেওয়ার পরও কোনো শিক্ষক টিউশনি করছেন, এর সপক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকে শো-কজ, এমনকী বেতন বন্ধের মতো কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। এবিষয়ে আগামী সপ্তাহে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) অফিস থেকে জেলার সমস্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে চিঠি যাবে। তাতে একটি মুচলেকার কপি যুক্ত করা হবে। সেটি প্রিন্টআউট বের করে প্রত্যেক শিক্ষককে পূরণ করে জমা দিতে হবে।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) পলাশ রায় বলেন, আগামী সপ্তাহে জেলার সমস্ত জুনিয়র হাইস্কুল, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের চিঠি দেব। তাতে একটি ফরম্যাট দেওয়া হবে। সমস্ত শিক্ষকদের সেই ফরম্যাট পূরণ করে জমা দিতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা টিউশনি পড়াচ্ছেন না বলে ঘোষণাপত্র দেবেন।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা সরকারি নির্দেশ অমান্য করে টিউশনি পড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। নতুন সরকার নির্দেশিকা জারি করেছে যে, কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা টিউশন পড়াতে পারবেন না। তারপরও অনেক শিক্ষক প্রাইভেট টিউশনি ছাড়ছেন না। তমলুক থেকে কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কাঁথি-সর্বত্রই ছবিটা প্রায় এক। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চল থেকে ছাত্রছাত্রীরা দল বেঁধে শহরে শিক্ষকদের বাড়িতে পড়তে আসছে। আবার, ধরা পড়ার ভয়ে শিক্ষকদের কেউ কেউ রাত ৮টার পর ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি গিয়ে পড়াচ্ছেন।
প্রাইভেট টিউশন করার অভিযোগে প্রায় ৮০০শিক্ষক-শিক্ষিকার নাম জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে জমা দিয়েছে গৃহশিক্ষক কল্যাণ সমিতি। তাঁদের বিরুদ্ধে এখনই পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। বরং প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকার কাছ থেকে মুচলেকা আদায়ের পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) কার্যালয়। তারপর কেউ টিউশনের সঙ্গে যুক্ত থাকলে এবং হাতেনাতে প্রমাণ পেলে পদক্ষেপ করা হবে।
গৃহশিক্ষক কল্যাণ সমিতি ২৫জুন রাজ্যের সমস্ত জেলায় ডেপুটেশন কর্মসূচি রেখেছিল। পূর্ব মেদিনীপুরে ডেপুটেশনের সময় প্রাইভেট টিউশনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নামও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদিকা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, পূর্ব মেদিনীপুরে ৯০শতাংশ স্কুলের শিক্ষক প্রাইভেট টিউশনির সঙ্গে যুক্ত। তমলুক শহরে হ্যামিল্টন হাইস্কুল, তমলুক হাইস্কুল, ডহরপুর হাইস্কুল, কুলবেড়িয়া হাইস্কুল সহ বহু বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা টিউশনি পড়াচ্ছেন। তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের থেকে মাথাপিছু মাসে ২২০০-২৫০০টাকা নিচ্ছেন। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা সত্ত্বেও অনেকে নিশ্চিন্তে প্রাইভেট টিউশনি পড়াচ্ছেন। আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছি।