Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলিতে অস্থায়ী পুরকর্মীদের বিক্ষোভ, পরিষেবা নিয়ে শঙ্কা

অস্থায়ী পুরকর্মীদের বিক্ষোভের ফলে হুগলির একাধিক পুরসভা এলাকায় সংকটের মুখে পরিষেবা

হুগলিতে অস্থায়ী পুরকর্মীদের বিক্ষোভ, পরিষেবা নিয়ে শঙ্কা
  • ২৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: অস্থায়ী পুরকর্মীদের বিক্ষোভের ফলে হুগলির একাধিক পুরসভা এলাকায় সংকটের মুখে পরিষেবা। এর মধ্যে চুঁচুড়া পুরসভা থেকে উত্তরপাড়া পুরসভা যেমন রয়েছে, তেমনই আছে চাঁপদানি পুরসভা থেকে শ্রীরামপুর। মূলত, সময়ে মজুরি না পাওয়ার অভিযোগকে ঘিরে বিক্ষোভ দানা বাঁধলেও স্থায়ীকরণ, মজুরি বৃদ্ধি সহ একাধিক ইস্যু রয়েছে তাঁদের। হুগলি জেলায় প্রায় সব পুরসভায় সিংহভাগ কাজের দায়িত্বই রয়েছে অস্থায়ী কর্মীদের উপর। বিশেষ করে সাফাইয়ের মতো কাজ করেন অস্থায়ী কর্মীরাই। এই অবস্থায় তাঁদের ক্ষোভ-বিক্ষোভকে ঘিরে প্রশাসনের অন্দরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Advertisement

ইতিমধ্যেই উত্তরপাড়ায় ক্ষোভ কিছুটা কমলেও চুঁচুড়া, চাঁপদানি, শ্রীরামপুরের মতো পুরসভায় বিক্ষোভ বহাল রয়েছে। কর্মীরা এখনও কর্মবিরতির মতো আন্দোলনে নামেননি। তবে পুরসভাগুলির নিজস্ব ভাঁড়ারে টাকা না থাকায় প্রশাসন তাঁদের মজুরি কতটা মেটাতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এই অবস্থায় নাগরিক পরিষেবা সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে যাওয়া কঠিন। পুর এলাকার বাসিন্দারা এমনটাই মনে করছেন। বর্তমানে হুগলির সবক’টি পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় প্রশাসক বসানো হয়েছে। এই অবস্থায় পুরসভা অস্থায়ী কর্মীদের বকেয়া মজুরি দিতে চাইলেও দ্রুত তা দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, প্রশাসকদের টাকা খরচ করার ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি লাগে। তার একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। এতে কিছুটা সময় লাগে।এনিয়ে বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, মানুষের থেকে ভোট নিয়ে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানরা পালিয়ে গিয়েছেন। সবে প্রশাসন দায়িত্ব নিয়েছে। নাগরিক পরিষেবা যাতে সংকটে না পড়ে, সেদিকে তাঁরা নজর রাখবেন। আমরাও স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়াব। সমস্যা হবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুরসভার প্রশাসনিক কর্তা বলেন, অস্থায়ী কর্মীদের মজুরি দেওয়ার বিষয়টি খুব কঠিন। তাঁদের অধিকাংশ টাকাই পুরসভার ভাঁড়ার থেকে দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে পুর কোষাগারের অবস্থা ভালো নয়। উত্তরপাড়ায় সমস্যা মেটানো হয়েছে। অন্যত্রও মিটে যাবে। নাগরিক পরিষেবা বহাল রাখার যাবতীয় ব্যবস্থা করাই মুখ্য দায়িত্ব। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই হুগলির পুরসভাগুলিতে ডামাডোল শুরু হয়। তার জেরে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ বহু কাউন্সিলার পদত্যাগ করায় বোর্ড ভেঙে যায়। একইসঙ্গে শুরু হয় আইনি জটিলতা। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের মজুরি আটকে গিয়েছে। এই অবস্থায় উত্তরপাড়া থেকে চুঁচুড়া, চাঁপদানি থেকে শ্রীরামপুর— অস্থায়ী পুর কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন। ফলে পরিষেবা নিয়ে নাগরিক মহলে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শহরের নিকাশি ও সাফাই ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কাজগুলি করেন মূলত অস্থায়ী কর্মীরাই। অতীতে কর্মচারী বিক্ষোভের জেরে চুঁচুড়া, উত্তরপাড়া, বাঁশবেড়িয়া সহ একাধিক পুর এলাকায় নাগরিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ