Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পাঁচ মাস বেতন নেই, পুরসভার দরজা ওড়না দিয়ে বেঁধে বিক্ষোভ-পথ অবরোধ অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীদের

পাঁচ মাস বেতন নেই, পুরসভার দরজা ওড়না দিয়ে বেঁধে বিক্ষোভ-পথ অবরোধ অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীদের
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মহাত্মা গান্ধী রোডে পুরসভার অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীদের বিক্ষোভ। পথ অবরোধ। অবরোধকারীদের হঠাতে নামল র‌্যাফ। মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় তিনঘণ্টাজুড়ে অবরোধ চলায় কার্যত অবরুদ্ধ মধ্য হাওড়া। তীব্র যানজট শহরে।

Advertisement

স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, গত পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। কিন্তু শহরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কাজ নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছেন। পুরসভার কাছে একাধিকবার বকেয়া বেতনের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কান দেয়নি। তাই এবার পথে নেমে প্রতিবাদ শুরু করলেন কয়েকশো স্বাস্থ্যকর্মী। অবরোধের পর এদিন তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসে পুরসভা। জানা গিয়েছে, দ্রুত বকেয়া বেতন মেটানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। 
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় আড়াই হাজার অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। পুরসভার ৫০টি ওয়ার্ডে তাঁরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কাজ করেন। শহরের নাগরিকদের স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা, ভেক্টর কন্ট্রোলের মতো কাজ করতে হয় তাঁদের। কর্মীদের অভিযোগ, আগে মাসে পাঁচ হাজার ২০০ টাকা বেতন পেতেন। কিন্তু বর্তমানে বেতন কমে গিয়েছে। হয়েছে চার হাজার ৫৫০ টাকা। কিন্তু সেই কম বেতনও পাঁচ মাস ধরে পাচ্ছেন না। পুর কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দাবি জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। ফলে এদিন দুপুর দেড়টা নাগাদ পুরসভার সামনে জমায়েত করেন। বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েকশো স্বাস্থ্যকর্মী। ওড়না দিয়ে বেঁধে দেন পুরসভার দরজা। তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ চলে। 
এর ফলে বঙ্কিম সেতু, হাওড়া ময়দান, মহাত্মা গান্ধী রোড, ঋষি বঙ্কিম রোড, চার্চ রোড সহ মধ্য হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। বঙ্কিম সেতুর ওপর সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে বাস, অটো। যানজটে আটকে যায় অ্যাম্বুলেন্সও। পরিস্থিতি সামলাতে হাওড়া সিটি পুলিসের মহিলা ফোর্স ও র‍্যাফ নামে। ছুটে আসেন সিটি পুলিসের আধিকারিকরা। সন্ধ্যা নাগাদ পুলিসি মধ্যস্থতায় বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধি দল পুর কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করতে পুরভবনে ঢোকেন। বিক্ষোভকারী মধুমিতা দত্ত, অপর্ণা কোলে, শ্রাবণী দাসরা বলেন, ‘১২ বছর ধরে অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কাজ করছি। পুরসভার অনেক অতিরিক্ত কাজও করতে হয়। সামান্য যেটুকু বেতন মেলে সেটিও পাঁচ মাস ধরে পাচ্ছি না। সংসার কিভাবে চালাব? বাধ্য হয়েছি বিক্ষোভে নামতে।’ জানা গিয়েছে, পুরসভা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এক মাসের বেতন মেটানোর আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত বাকি বকেয়াও মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘ওঁরা দায়িত্বের সঙ্গে ওয়ার্ডে ঘুরে কাজ করছেন। এতদিন টাকা বরাদ্দ না হওয়ায় বেতন দেওয়া যাচ্ছিল না। শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ