


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলা মাসের হিসেবে এখনো বসন্তকাল, বস্তুত ভরা বসন্ত। কিন্তু এরই মধ্যে দেশজুড়ে তাপমাত্রা চড়তে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গুজরাত, বিদর্ভ, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ এমনকি পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল প্রদেশের কোথাও কোথাও তাপপ্রবাহ বা তার কাছাকাছি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে রয়েছে। হরিয়ানা, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, তেলেঙ্গানাসহ কয়েকটি রাজ্যে ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রির মধ্যে তাপমাত্রা চলে এসেছে। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪-৩৫ ডিগ্রির আশপাশে আছে। কিছুটা মেঘলা আকাশের জন্য কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের কিছু অংশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এদিনও কিছুটা কম ছিল। কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৩০.৮ ডিগ্রি) স্বাভাবিকের থেকে ২.২ ডিগ্রি কম ছিল। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তেলেঙ্গানা, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহারে তাপমাত্রা বাড়লে তার প্রভাব পড়বে দক্ষিণবঙ্গেও।
এখন বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে কোথাও ঝড়বৃষ্টি হলে ওই এলাকা গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলবে। বুধবার সন্ধ্যার দিকে দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার কোথাও কোথাও বজ্রমেঘের সৃষ্টি হয়েছিল। আবহাওয়া দপ্তর ফের ১৫-১৬ মার্চ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বজ্রমেঘ থেকে ঝড়বৃষ্টি বা হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও লাগোয়া জেলাগুলিতে অবশ্য ঝড়বৃষ্টি চলবে বলে জানানো হয়েছে।
মার্চ মাসের মাঝামাঝি বা শেষ থেকে মে মাস পর্যন্ত বর্ষা আসার আগে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বেশিরভাগ অংশে গরম সবথেকে বেশি হয়। এবারো দেশের বেশিরভাগ অংশে গরমের মাত্রা ও তাপপ্রবাহ স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা বেশি হতে পারে। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। লা নিনা পরিস্থিতি প্রশান্ত মহাসাগর থেকে বিদায় নিয়ে নিউট্রাল এসনো পরিস্থিতি আসতে চলেছে। এতেও গরম বাড়তে পারে। বর্ষাকালে এল নিনো পরিস্থিতি চলে আসবে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলির তরফে। এল নিনো পরিস্থিতিতে বৃষ্টি কম হওয়ার পাশাপাশি তাপমাত্রাও বাড়ে। তার প্রভাব পড়ে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। তাই আগামী দিনগুলিতে গরম নিয়ে উদ্বেগ থাকছে আবহাওয়াবিদদের মধ্যেও।