বিদেশ বসু: ১৯৭৬ সাল। মরশুম সবে শুরু হয়েছে। মোহন বাগানে আমার প্রথম বছর। প্র্যাকটিস শেষ। কিন্তু আমি বল নিয়ে একাই উইং থেকে ইনসাইড- আউটসাইড করে সেন্টার তুলছি। মাঠের বাইরে তখন বাবলু দা’র (সুব্রত ভট্টাচার্য) সঙ্গে কথা বলছেন কোচ প্রদীপ দা (পিকে ব্যানার্জি)। হঠাৎই আলোচনা থামিয়ে আমায় ডাকলেন। তারপর পেলাম উইং প্লে’র কিছু মূল্যবান পরামর্শ। সেবার লিগের ডার্বি জয়ের পর সমর্থকরা কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিনও একই ঘটনা ঘটে। খুব কাজে এসেছিল প্রদীপ দা’র দেওয়া সেই টোটকা।
আমাদের সময়ে কলকাতা লিগের আলাদা গুরুত্ব ছিল। এই প্রতিযোগিতায় সফল হলে আর ফিরে তাকাতে হতো না। সবাই জানেন, বড় ক্লাবের জার্সির ওজন নেওয়া মানে পাহাড়প্রমাণ চাপ। পান থেকে চুন খসলেই সমর্থকদের চোখা চোখা বিশ্লেষণ। আর উপরি ইটের টুকরো। তাই ভালো খেলার জন্য আমরা সবাই উদগ্রীব থাকতাম। এভাবেই টেম্পারামেন্ট তৈরি হয়েছে। এখন তো খেলাই হয় ময়দানের বাইরে। ক’জন দর্শক আর মাঠে যান? এই প্রজন্মের ফুটবলাররা তাই সেই উন্মাদনা থেকে বঞ্চিত।
দর্শক মাঠ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আরও একটা কারণ আছে। স্থানীয় ফুটবলার কোথায়? যাকে দেখতে তার এলাকার লোক মাঠে ভিড় করবে! আমাদের সময় তো সব দলেই স্থানীয় ফুটবলারদের দাপাদাপি। অবশ্য এই মরশুমে ভূমিপুত্রের সংখ্যা বাড়িয়েছে আইএফএ। কিন্তু এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। আগে বয়সভিত্তিক ফুটবল হত প্রায় প্রতিটি জেলায়। ময়দানের কর্তারা ঘুরে ঘুরে ফুটবলার তুলে আনতেন। আমি এসেছি চুঁচুড়া লিগ থেকে। সাহাগড় স্পোর্টিং ক্লাবে তখন খেলছি। সেটা ১৯৭১। একটা ম্যাচ আমরা জিতেছিলাম ৩-১ গোলে। আমি একটা গোল পাই। আর বাকি দুটো করাই। খেলার শেষে এক ভদ্রলোক আমায় বললেন, ‘সমর দা তোমায় ডাকছেন। মানে সমরেন্দ্র বিশ্বাস। ভ্রাতৃ সঙ্ঘের কোচ। পরের বছরই ওই ক্লাবে সই করি।
এখন তো লিগে বিদেশিরাও খেলে না। একদিক থেকে তা ভালোই। স্থানীয় ফুটবলারদের সুযোগ বেড়েছে। কিন্তু খেলোযাড়দের যে বাড়তি তাগিদ দেখাতে হবে। মনে রাখা উচিত, দর্শক মাঠে আসে ভালো খেলা দেখতে। তাই শুধু আইএফএ আর ক্লাব কর্তারা নয়, দর্শকদের মাঠমুখো করতে হলে দায়িত্ব নিতে হবে ফুটবলারদেরও।