Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্রেণিকক্ষে তিস্তার জল, পঠনপাঠন চলছে রাস্তায়

তিস্তার জল ঢুকেছে গোটা গ্রামে। এখনও একহাঁটু জল স্কুলের মাঠে। ক্লাসরুমেও জল থইথই। বিষাক্ত পোকামাকড় সহ সাপ ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই জলে।

শ্রেণিকক্ষে তিস্তার জল, পঠনপাঠন চলছে রাস্তায়
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: তিস্তার জল ঢুকেছে গোটা গ্রামে। এখনও একহাঁটু জল স্কুলের মাঠে। ক্লাসরুমেও জল থইথই। বিষাক্ত পোকামাকড় সহ সাপ ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই জলে। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়ে রাস্তায় ত্রিপল টাঙিয়ে পলিথিন বিছিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়াচ্ছেন ক্রান্তির উত্তর বাসুসুবা হাবিরুদ্দিন স্মৃতি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা। 

Advertisement

চাপাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের আটটি গ্রামের প্রায় চার হাজার বাড়ি জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। স্কুলের সামনেও এখন একহাঁটু জল। ক্লাসরুমে তিস্তার ঘোলা জল দাঁড়িয়ে আছে। গ্রামে সাপ, ব্যাঙের উপদ্রব শুরু হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই শিক্ষকরা পড়ুয়াদের রাস্তায় বসিয়ে পড়াচ্ছেন। কখনও প্রখর রোদ, আবার কখনও মুষলধারে বৃষ্টি। তারমধ্যেই পড়তে হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। 
স্কুলের প্রধান শিক্ষক তীর্থপ্রতিম দেব বলেন, স্কুলে প্রি-প্রাইমারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। সামনেই পরীক্ষা বাচ্চাদের। তাই রাস্তার পলিথিন বিছিয়ে ওদের ক্লাস করাচ্ছি। শ্রেণিকক্ষে জল থইথই। হয়তো সাপ, ব্যাঙ বাসা বেধেছে। এরমধ্যেও পড়ুয়াদের নিয়মিত মিড ডে মিল খাওয়ানো হচ্ছে। 
স্থানীয় বাসিন্দা আলাবক্স আলি বলেন, আমার এক নাতি ওই স্কুলে পড়ে। তিস্তা নদীর জল গ্রামে ঢুকেছে। অনেক বাড়িতেই জল দাঁড়িয়ে আছে। স্কুলেও জল দাঁড়িয়ে। তাই শিক্ষকরা রাস্তার বসিয়ে পড়াচ্ছেন। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিস্তা নদীর জল স্থানীয় বৈদ্যডাঙি নদীতে ঢুকে পড়েছে। সেই নদীর জলই এখন গ্রামে। দক্ষিণ বাসুসুবা ও উত্তর বাসুসুবার ৮০০ বাড়ি,  পূর্ব সাঙ্গোপাড়ার ৬০০ বাড়ি,  চাপাডাঙার ৩০০, ডাবুরিপাড়ার ৪০০, দক্ষিণ চ্যাংমারির ১০০০, দাসের মোড়ের ৪০০ বাড়ি সহ আরও অনেক এলাকার বহু বাড়িতে জল দাঁড়িয়ে আছে। কবে জল নামবে বুঝতে পারছেন না কেউই।

সম্পর্কিত সংবাদ