


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: মায়ের মৃত্যু হয়েছে একবছর আগে। পিতৃপক্ষের শেষে মায়ের আত্মার শান্তি কামনায় গঙ্গার ঘাটে গিয়েছিল কিশোর। সঙ্গে ছিলেন তার বাবা। তর্পণ সেরে ফেরার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল কিশোরের। বেলুড় স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেনের ধাক্কায় দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে হয়ে ১৫ বছর বয়সি ছেলের। চোখের সামনে সেই দৃশ্য দেখে রেল লাইনেই মূর্ছা যান বাবা। রবিবার মহালায়ার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বেলুড় স্টেশনে। মৃতের নাম শুভজিৎ দে। নবম শ্রেণির ছাত্র সে। বেলুড়ের পাশাপাশি উলুবেড়িয়া, কলকাতাতেও তর্পণ আচার অনুষ্ঠান চলাকালীন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বেলুড় থানা এলাকার পটুয়াপাড়া শিবতলার বাসিন্দা শুভজিৎ। সম্প্রতি তার মাতৃবিয়োগ হয়। তারপরই সে বাবাকে বলে মহালয়ার দিন বেলুড় মঠে তর্পণ করতে যাবে। সেই আচার সেরে ফেরার সময় সাবওয়ে দিয়ে লাইনে ওঠে বাবা-ছেলে। ছেলে সামনে ছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় লাইন পেরিয়ে তিন নম্বরে যায় শুভজিৎ। সেই সময়েই গতিতে হুল এক্সপ্রেস যাচ্ছিল। দূরপাল্লার ট্রেন ছিন্নভিন্ন করে দেয় কিশোরের দেহ।
অন্যদিকে, কলকাতা, উলুবেড়িয়া, হুগলি কোনও জায়গাতেই পুরোপুরি নির্বিঘ্নে তর্পণ শেষ হয়েছে, তা বলা যায় না। কোথাও তর্পণ চলাকালীন ডুবে মৃত্যু হয়েছে, আবার কোথাও সোনার হার খুইয়েছেন মহিলা। রবিবার সকালে বাজে কদমতলা ঘাটে তর্পণ করাতে যান এক পুরোহিত। তাঁর নাম শিবরাম ভট্টাচার্য (৬০)। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের বাসিন্দা তিনি। জলে তর্পণ চলাকালীন আচমকাই অসুস্থবোধ করেন পুরোহিত। জলেই পড়ে যান তিনি। উদ্ধার করে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই বৃদ্ধকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। উলুবেড়িয়াতেও গঙ্গার ঘাটে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয় এদিন সকালে। কালীবাড়ি ঘাটে মায়ের সঙ্গে তর্পণ সারতে এসে তলিয়ে যায় এক নাবালিকা। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সে। স্নানের জন্য নামার সময় নদীতে ভাটার স্রোত ছিল। আচমকাই ওই ছাত্রী তলিয়ে যায়। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালায়। নামানো হয় ডুবুরি। কিন্তু, রাত পর্যন্ত নাবালিকাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে যান উলুবেড়িয়া এসডিপিও শুভম যাদব। এদিকে, কল্যাণী ব্লকের কাঁচরাপাড়া পঞ্চায়েতের রানি রাসমণি ঘাটে রবিবার মহালয়ার দিন জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। মৃতের নাম জিৎ বল (২১)। তাঁর বাড়ি গয়েশপুর পুরসভার কাটাগঞ্জ এলাকায়।
পিতৃতর্পণে এসে ২ ভরির সোনার হার খোয়ালেন চুঁচুড়ার কাপাসডাঙার এক গৃহবধূ। বিপাশা সাহা নামে ওই গৃহবধূ এদিন ময়ূরপঙ্খি ঘাটে এসেছিলেন। আচমকাই খেয়াল করেন গলার হার নেই। পরে গঙ্গার ঘাটসহ নানা জায়গা খুঁজেও তা মেলেনি। চুঁচুড়ার থানায় এনিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যদিও পুলিশের দাবি, গয়না পরে স্নানে নামতে নিষেধ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, কলকাতা ও শহরতলির সব ঘাটে তর্পণ উপলক্ষ্যে ব্যাপক ভিড় ছিল। সকালেই তর্পণের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে রিভার ট্রাফিক পুলিশের স্পিড বোটে গঙ্গাবক্ষে পরিদর্শন করেন কলকাতার সিপি মনোজ ভার্মা। অন্যদিকে, এদিন গঙ্গাসাগরে তর্পণ সারেন প্রায় লক্ষাধিক পুণ্যার্থী। ভোর রাত থেকে এক নম্বর সমুদ্র সৈকতে পুণ্যার্থীরা স্নান করেন। তবে দুই থেকে চার নম্বর সমুদ্র সৈকতে এদিন কোনও পুণ্যার্থীকে নামতে দেওয়া হয়নি। রবিবার ভোরে নোদাখালির মধ্যরায়পুরে স্বদেশি মেলার মাঠে এর গঙ্গার ঘাটে তর্পণ করলেন প্রায় দশ থেকে পনেরো হাজারের বেশি মানুষ। পাশাপাশি প্রচুর মহিলা ও কিশোর ও এদিন ওই ঘাটে এসে গঙ্গাস্নান করেন।