সংবাদদাতা, ঘাটাল: মাত্র ১৩ বছরে প্রেম শুরু। ১৪ বছরে পালিয়ে বিয়ে। ১৫ বছরে সন্তান। আর ১৬ বছরে মন টিকল না তিন বছরের সংসারে। পরকীয়ায় জড়িয়ে নতুন সংসার স্বপ্নে পালিয়ে গেল সেই নাবালিকা। বাপের বাড়িতে ফেলে গেল কোলের সন্তানকেও। দাসপুর থানার গোপীগঞ্জ এলাকার পঞ্চানন তলার ওই কিশোরী-বধূর তিন বছরের ‘নাটকীয় কাহিনী’ কাহিনি শুনে চোখ কপালে উঠেছে পুলিস, প্রশাসন সহ সাধারণ মানুষের।
জানা গিয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর এক বছরের শিশুপুত্রকে বাপের বাড়িতে রেখে বেপাত্তা হয়ে যায় ওই বধূ। বাবা-মা ভয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে যেতে পারেননি। তিতিবিরক্ত বাবা-মা বলেন, কোন মুখ নিয়ে থানায় যাব? আইন অনুযায়ী মেয়ের বিয়ে দেওয়ারই বয়স হয়নি। এই বয়সে দু’বার বিয়ে। এক সন্তানের মাও হয়ে গিয়েছে আমার মেয়ে। তাই থানায় গেলে হয়তো আমাদেরই সমস্যা হবে। এদিকে, দাসপুর-২ বিডিও প্রবীরকুমার শীট বলেন, ঘটনাটি শুনলাম। এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। আসলে কম বয়সে বাচ্চার হাতে মোবাইল সহ ভরপুর স্বাধীনতা দিলে এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যেক বাবা-মায়েরই উচিত সন্তানদের নিয়মিত নজরদারি করা। সেটা এক্ষেত্রে হয়তো হয়নি। পুলিস জানিয়েছে, কিশোরী অন্য চক্রে ফেঁসে গেল কিনা জানতেও ওর বাবা-মায়ের থানায় অভিযোগ করা দরকার। অভিযোগ হলেই পুলিস তদন্ত শুরু করবে।
ওই কিশোরী বধূর বাবা কলকাতায় একটি বাড়িতে রান্নার কাজ করেন। মা গৃহবধূ এবং দাদা অল্প বয়সেই সোনার কাজে গিয়ে আয়ও করতে শুরু করছে। বাড়িতে আদরের মেয়ে যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে তখনই তার হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়া হয়। সেই ফোনের সুবাদেই পাঁশকুড়া থানার বিকরাচন্দনগেড়িয়ার যুবক সনু জানার প্রেমে পড়ে। সনু ফুলের কাজ করে। হাতে কাঁচা পয়সা। কিশোরীর জেঠু বলেন, ভাইঝিকে ছাত্রী অবস্থাতেই পোশাক উপহার দিয়ে মন ভরিয়ে দিয়েছিল ওই যুবক। বছর চারেক আগে একদিন ভাইঝি স্কুল যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। পরে জানতে পারি, সনুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। একরকম বাধ্য হয়েই মেয়ে-জামাইকে মেনে নেয় বাপের বাডির লোকেরা। বিয়ের বছর দেড়েক পরে তাদের একটি পুত্র সন্তান হয়। সনু বলেন, ছেলের বয়স ছ’মাস হওয়ার পর থেকেই আমার স্ত্রীর মন মানসিকতা অন্যরকম লাগতে শুরু হয়। ফোন নিয়েই ব্যস্ত থাকত। আগস্ট মাসে স্ত্রী বাপের বাড়ি আসতে চাইলে পাঠিয়ে দিই। ২ সেপ্টেম্বর পুজোর কেনাকাটা করার জন্য নগদ ৭ হাজার টাকাও পাঠাই। কিশোরী বধূর মা বলেন, নাতিকে নিয়ে মেয়ে এখানে বেশ ভালোই ছিল। ৩ সেপ্টেম্বর সকালে জামাইয়ের পাঠানো টাকায় কেনাকাটা করার জন্য বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে চাঁইপাট বাজারে যাচ্ছি বলে বেরিয়ে যায়। বাড়িতে নাতিকেও রেখে যায়। সেই থেকে আর বাড়ি ফেরেনি।