Bartaman Logo
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাবা-মায়ের বকুনি খেয়ে ‘প্রেমিকের’ সঙ্গে দেখা করতে ডালখোলা রওনা! মালদহে উদ্ধার শান্তিপুরের কিশোরী

বাবা-মায়ের বকুনি সহ্য করতে না পেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হওয়া প্রেমিকের টানে শান্তিপুর থেকে ট্রেনে চেপে ডালখোলার দিকে রওনা কিশোরীর।

বাবা-মায়ের বকুনি খেয়ে ‘প্রেমিকের’ সঙ্গে দেখা করতে ডালখোলা রওনা! মালদহে উদ্ধার শান্তিপুরের কিশোরী
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: বাবা-মায়ের বকুনি সহ্য করতে না পেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হওয়া প্রেমিকের টানে শান্তিপুর থেকে ট্রেনে চেপে ডালখোলার দিকে রওনা কিশোরীর। ট্রেনে অস্বাভাবিক আচরণ দেখে সন্দেহ হওয়ায় এক সহযাত্রী ওই কিশোরীকে মালদহের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মদতে জিআরপির হাতে তুলে দেন। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ওই কিশোরীর বছরখানেক আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ডালখোলার কোনো এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। সোশ্যাল মিডিয়াতেই তাদের আলাপচারিতা প্রেমে পরিণত হয়। এরপর থেকে তাদের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে। এরপরই বাড়িতে বকুনি খেয়ে প্রেমিকের কাছে যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কিশোরীর বাবা শান্তিপুরের একটি রেশনের দোকানে কাজ করেন। তার মা গৃহবধূ। মোবাইল নিয়ে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটাত সে। পড়াশোনাতেও অমনযোগী হয়ে পড়ে। এনিয়ে মেয়েকে শাসন করে তার বাবা-মা। মঙ্গলবার স্কুলে না যাওয়ায় কিশোরীকে বকাঝকা করেন বাবা-মা।
এরপরই ওই কিশোরী মায়ের মোবাইল থেকে তার প্রেমিককে ফোন করে সমস্ত  কথা জানায়। যুবকটি কিশোরীকে এক হাজার টাকা পাঠায়। সেই টাকা নিয়ে মঙ্গলবার শান্তিপুর থেকে তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেসে চাপে সে। 
কিশোরী যে কোচে উঠেছিল, সেখানেই উঠেছিলেন আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা দেবাশিস দত্ত। ওই কিশোরী দেবাশিসবাবুর মোবাইল চেয়ে বেশ কয়েকবার বিশালকে ফোন করে নিজের ঠিকানা জানায়। ওই যুবকও দু-একবার তাঁর মোবাইলে ফোন করে কথা বলে। এতেই সন্দেহ হয় দেবাশিসের। 
মালদহ স্টেশন পৌঁছানোর আগেই অনলাইনে মালদহের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন দেবাশিস। তারা বিষয়টি জিআরপিকে জানানোর পরে মালদহ স্টেশন থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
মালদহের জিআরপির এক আধিকারিক বলেন, ওই নাবালিকাটি কোনোভাবে পাচারকারীদের ফাঁদে পড়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ