সংবাদদাতা, বোলপুর: ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তুলতে ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। উন্নয়নের সুফল যাতে সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে। শুক্রবার বিশ্বভারতীর বাংলাদেশ ভবনে আয়োজিত ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য উদ্ভাবন: ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির সেতুবন্ধনে বিকশিত ভারত’ শীর্ষক আলোচনায় এই বার্তা দিলেন নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডঃ অশোককুমার লাহিড়ী।
এদিনের অনুষ্ঠানে বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক, গবেষক ও পড়ুয়ারা অংশ নেন।
ডঃ লাহিড়ী বলেন, শুধু প্রযুক্তির উন্নয়ন হলেই হবে না, তার সুফল দেশের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের কাছেও পৌঁছাতে হবে। শহর ও গ্রামের ব্যবধান কমিয়ে সবাইকে উন্নয়নের অংশীদার করতে হবে। সেকারণেই দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গ্রামীণ জ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তাঁর বার্তা, ইউনিভার্সিটির কাজ শুধু পড়াশোনা করানো বা ডিগ্রি দেওয়া নয়। নতুন গবেষণা, উদ্ভাবন ও সমাজের সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতেও বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে আসতে হবে। সেইসঙ্গে তরুণদের দক্ষ করে তোলার উপরও তিনি জোর দেন। প্রশ্নোত্তরপর্বে পড়ুয়াদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষিত বেকার অশিক্ষিত বেকারের চেয়ে অনেক ভালো। ন্যূনতম শিক্ষা না থাকলে জীবনের বহু সুযোগ থেকে মানুষ বঞ্চিত হয়। তাই শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নতির সঙ্গে গবেষণা এবং প্রযুক্তিকে যুক্ত করতে পারলেই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে। আর সেই কাজেও সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে।
বিশ্বভারতীর উপাচার্য বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বমানবতার আদর্শকে সামনে রেখেই বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই আদর্শ মেনেই এখনও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও সমাজের উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। ঐতিহ্য রক্ষা করার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণার উপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিনের আলোচনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, গবেষণা, উদ্ভাবন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিকশিত ভারত গড়ে তুলতে সবার অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়। বিভিন্ন বক্তারা বলেন যে, উন্নয়নের আসল লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নয়, এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যেখানে উন্নয়নের সুযোগ-সুবিধা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে যায়।