Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রযুক্তির ত্রুটিতেই অসুস্থদের দুর্ভোগ, গোড়ায় গলদ বিএলও অ্যাপে

হুইল চেয়ারে বসে থাকতে পারছেন না বর্ধমানের মায়া কর্মকার। বারবার ঘাড় বেঁকে যাচ্ছে। পরিজনরা আবার সোজা করে বসিয়ে দিচ্ছেন

প্রযুক্তির ত্রুটিতেই অসুস্থদের দুর্ভোগ, গোড়ায় গলদ বিএলও অ্যাপে
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: হুইল চেয়ারে বসে থাকতে পারছেন না বর্ধমানের মায়া কর্মকার। বারবার ঘাড় বেঁকে যাচ্ছে। পরিজনরা আবার সোজা করে বসিয়ে দিচ্ছেন। সেটা কিছুক্ষণের জন্য। মায়াদেবীর জন্ম ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। এই বাংলাতেই। পরে তিনি বর্ধমানের শাঁখারিপুকুরে থাকতে শুরু করেন। নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনি ‘সন্দেহজনক’ ভোটার। বুধবার শুনানি কেন্দ্রে তাঁর ডাক পড়েছিল। কমিশনের নির্দেশ পরিবারের লোকজন অমান্য করেননি। তাঁরা মায়াদেবীকে ঠেলতে ঠেলতেই বর্ধমানে মহকুমা শাসকের দপ্তরে নিয়ে আসেন। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর তাঁর ডাক পড়ে। পরিবারের দাবি, ভোটার হওয়ার পর থেকে তিনি প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়ে আসছেন। তারপরও বিএলওদের অ্যাপে ২০০২ সালের তালিকায় তাঁর নাম দেখা যায়নি।

Advertisement


পরিবারের সদস্যরা বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা। বিএলওদের অ্যাপে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে অনেকের ডাক পড়েছে। খণ্ডঘোষের বিধায়কের মা’কেও একই কারণে শুনানি কেন্দ্রে হাজিরা দিতে হয়। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভুলের জন্য সাধারণ মানুষ কেন খেসারত দেবে? ওদের আগের প্রযুক্তিগত সমস্যা মেটানো উচিত ছিল। এই প্রচণ্ড ঠান্ডায় বয়স্কদের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এর দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। বিজেপিকে খুশি করতে ওরা বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিতে চাইছে। কিন্তু সেটা হবে না। আমাদের নজরদারি রয়েছে। তৃণমূলের সহ সভাপতি ইন্তেখাব আলম বলেন, আমরা কমিশনের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছিল। শুধু ৮৫ ঊর্ধ্ব নয়, সমস্ত অসুস্থ মানুষের শুনানিই বাড়িতে গিয়ে করতে হবে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন সংস্থা। তারা বিজেপির কথা শুনে চলবে কেন? তবে, মানুষকে দুর্ভোগ থেকে নিস্তার দিতে তারা আরও কিছু ব্যবস্থা নিতে পারত।


কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত জেলায় ৩৭ হাজার ৭৪০জনকে শুনানি কেন্দ্রে ডাকা হয়েছিল। এদিন ৮ হাজার ৬২২জন ডাক পেয়েছিলেন। ২০০২ সালের হার্ডকপিতে নাম থাকার পরও বিএলও অ্যাপে তা দেখায়নি। স্রেফ টেকনিক্যাল সমস্যার জন্যই এটা হয়েছে। এই সমস্যা অন্যভাবেও মেটানো যেতে পারত বলে বিএলওদের দাবি। বিএলও অধিকার রক্ষা মঞ্চের জয়েন্ট কনভেনর বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের দিয়ে বিভিন্ন রকম কাজ করানো হচ্ছে। এটাও করানো যেতে পারত। মানুষের হয়রানি দেখে নিজেদেরই খারাপ লাগছে। অনেকে কাজ বন্ধ করে শুনানি কেন্দ্রে আসছেন। বহু পরিবারের দৈনিক মজুরিতে সংসার চলে। তাঁদের কথা কমিশনের ভাবা উচিত ছিল। এক আধিকারিক বলেন, মাঝে কমিশন নন-ম্যাপিং ভোটারদের মধ্যে এসসি, এসটি, ওবিসিদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। বিতর্ক শুরু হতেই সেই নির্দেশ থেকে কমিশন পিছু হটে।  এসআইআরে অসুস্থ বৃদ্ধা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ