


নিজস্ব প্রতিনিধি, আমেদাবাদ: ঘড়ির কাঁটা পেরিয়ে গিয়েছে মধ্যরাত। লেজার শো আর আতশবাজির ঝলকানির মধ্যে ট্রফি হাতে গোটা দলের সেলিব্রেশন শেষ। কিন্তু উৎসবে দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন নেই!
এবার যে ভিকট্রি ল্যাপ শুরু। গায়ে জড়ানো জাতীয় পতাকা। ট্রফি নিয়ে শুরু হল মাঠ পরিক্রমা। দেশের মাটিতে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা এমন ছবি দেখেছিলেন ঠিক ১৫ বছর আগে। সেবার ওয়াংখেড়েতে ২ এপ্রিলের রাতে শচীন তেন্ডুলকরকে কাঁধে বসিয়ে মাঠ চক্কর দেন বিরাট কোহলিরা। আর এদিন যশপ্রীত বুমরাহ, সঞ্জু স্যামসনরা তেরঙা নিয়ে মাতলেন উৎসবে। ব্যাকগ্রাউন্ডে গমগম করে বাজছে ‘লেহরা দো।’
হঠাৎ বাইশ গজে বসে একের পর এক ট্রফি নিয়ে পোজ দিতে শুরু করলেন ক্রিকেটাররা। কেউ কেউ তো ডেকে নিলেন পরিবারের সদস্যদেরও। স্ত্রী, সন্তান নিয়ে পিচে চলল ফটোসেশন। প্রাণে খুশির তুফান উঠেছে যে!
জেকব ডাফির ক্যাচ তিলক ভার্মার হাতে জমা হতেই আনন্দে উদ্বেল মোতেরা। একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন বিশ্বজয়ীরা। জাতীয় পতাকা হাতে মাঠের চারদিক থেকে মুহূর্তের মধ্যে দৌড়ে এলেন অনেকে। রিহার্সাল করানোই ছিল। তাঁরা এসে ক্রিকেটারদের হাতে ধরিয়ে দিলেন জাতীয় পতাকা। সম্প্রচারকারী চ্যানেল তো পরপর ধরছে খেলোয়াড়দের। জাতীয় পতাকা গায়ে, মুষ্টিবদ্ধ দু’হাত ঝাঁকিয়েই চলেছেন হার্দিক। ক্যামেরায় সই করতে দেখা গেল ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদবকে। কোচ গৌতম গম্ভীরকে অনেকক্ষণ জড়িয়েও রইলেন। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার অনুভূতি কেমন? এমনিতে চোখে-মুখে সর্বক্ষণ হাসির ঝিলিক দেওয়া সূর্যকেও দেখাল আবেগতাড়িত। বললেন, ‘সময় লাগবে ধাতস্থ হতে। দারুণ খুশি তো বটেই। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা দারুণ স্মার্ট ক্রিকেট উপহার দিয়েছি। ফলও মিলল হাতেনাতে।’
মোতেরার ভিআইপি বক্সেও ছিল চাঁদের হাট। একই ফ্রেমে কপিলদেব, ‘ক্যাপ্টেন কুল’ মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রোহিত শর্মা। ভারতের তিন বিশ্বকাপজয়ী ক্যাপ্টেন। ক্রিকেটের চিরকালীন ‘হল অব ফেম’। টিভিতে সুনীল গাভাসকরকে বলতে শোনা গেল, ‘সঞ্জুর জন্য কোনও প্রশংসা যথেষ্ট নয়। মেগা ম্যাচে বড় রান পেতে মুখিয়ে থাকে ব্যাটাররা। মোক্ষম সময়ে রানে ফিরল অভিষেকও।’ সঞ্জুর শৌর্যে মুগ্ধ শচীন তেন্ডুলকরও। ব্যক্তিগত ৮৯ রানে ডানহাতি ব্যাটার আউট হওয়ার পর এক্স হ্যান্ডেলে শচীনের পোস্ট, ‘অসাধারণ ইনিংস। অবিশ্বাস্য পরিণত ব্যাটিং। মারার বল রেয়াত করেনি সঞ্জু।’ তখন কে জানত, তাঁর দেওয়া টিপসেই বাজিমাত করেছেন ডানহাতি ওপেনার!
নরেন্দ্র মোদি: চ্যাম্পিয়ন! আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ভারতীয় দলকে অভিনন্দন! দক্ষতা, সংকল্প ও দলগত সংহতির প্রতিফলনেই এসেছে এই সাফল্য। গোটা টুর্নামেন্টে অনবদ্য পারফরম্যান্স মেলে ধরেছ তোমরা। এই জয় প্রতিটি ভারতীয়কে গর্বিত করে তুলেছে। সাবাস টিম ইন্ডিয়া!
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: অভিনন্দন টিম ইন্ডিয়া। টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে তোমাদের এই সাফল্য গোটা দেশবাসীকে গর্বিত করেছে।
শচীন তেন্ডুলকর: টি-২০ ফরম্যাটে প্রথমবারের জন্য টানা দু’বার বিশ্বকাপ জয়! যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। টিমের প্রতিটি ক্রিকেটার দারুণ পারফরম্যান্স মেলে ধরেছে। ওয়েল ডান টিম ইন্ডিয়া!
বিরাট কোহলি: চ্যাম্পিয়ন! টিম ইন্ডিয়ার অনবদ্য জয়। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে ছেলেরা যে বিধ্বংসী ক্রিকেট মেলে ধরেছে তার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফকে অভিনন্দন। জয় হিন্দ।