মোতেরা: গ্রুপ পর্যায়ে চারটির মধ্যে তিনটি ম্যাচই মোতেরায় খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে সবরমতীর পাড়ের বাইশ গজ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা হয়ে গিয়েছে প্রোটিয়াদের। তবে রাতে একটা ম্যাচই খেলেছে আইডেন মার্করামের দল। তাতে রানতাড়া করে নিউজিল্যান্ডকে দাপটে হারিয়েছে তারা। অন্যদিকে, ভারত এই মাঠে বুধবারই হারিয়েছে নেদারল্যান্ডসকে। ফলে কন্ডিশন সম্পর্কে টাটকা অভিজ্ঞতা রয়েছে সূর্যকুমার যাদবদেরও। তবে গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচেই প্রথমে ব্যাট করেছে টিম ইন্ডিয়া। কোনওবারই রান তাড়া করতে হয়নি। সুপার এইটে অভিযান শুরুর আগে এটাও ভাবাচ্ছে সমর্থকদের।
উদ্বেগের আরও কারণ রয়েছে। আমেরিকা, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডসের মতো দলের বিরুদ্ধেও সেভাবে দাপট দেখানো যায়নি। বরং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় এসেছে বড় ব্যবধানে। ঘরের মাঠে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে যতটা আগ্রাসী দেখিয়েছিল নীল জার্সিধারীদের, তা অনেকটাই উধাও। এর একটা বড় কারণ বিশ্বকাপের মন্থর পিচ, যা স্ট্রোক নেওয়ার পক্ষে সহায়ক নয়। বল পড়ে থেমে আসছে। অভিষেক শর্মার শূন্যের হ্যাটট্রিকের নেপথ্যে এটাও একটা কারণ। তবে ঘটনা যাই হোক, তাঁর আত্মবিশ্বাসে যে টান পড়েছে তা পরিষ্কার। নাহলে ডাচদের বিরুদ্ধে মহম্মদ সিরাজের জার্সি পরে ব্যাট করতে যেতেন না! কেউ কেউ বলছেন, এই পরিস্থিতিতে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে অভিষেককে খেলিয়ে লাভ নেই। বরং বিশ্রাম দেওয়া হোক। অনেকের পরামর্শ, মেন্টর যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে কথা বলা উচিত অভিষেকের। কোচ গম্ভীর অবশ্য যতটা সম্ভব আত্মবিশ্বাস জোগালেন বাঁ-হাতি ওপেনারকে। অভিষেকের খেলা নিয়ে যে কোনও সংশয় নেই, তা পরিষ্কার করে দিলেন ভারতের বোলিং কোচ মর্নি মর্কেলও। তাঁর কথায়, ‘না, না ওকে বসানোর প্রশ্নই নেই। অভিষেক ওয়ার্ল্ড ক্লাস প্লেয়ার। এটা সৌভাগ্যের যে চলতি আসরে কেউ না কেউ ওর অভাব ঢেকে দিয়ে রান পেয়েছে। এবার বিশ্বকাপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছি। আশা করছি যে ও রান পাবে। শুধু দলের জন্যই নয়, দর্শকদের জন্যও অভিষেকের রান করা দরকার। ওর ব্যাটিং দেখলে ভালো লাগে সবার। নেটে দারুণ ব্যাট করছে ও। রান পাওয়াটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।’
রবিবারের মোতেরা সাক্ষী থাকবে মর্কেল ভাইদের লড়াইয়েরও। মর্নি যুক্ত ভারতীয় দলের সঙ্গে। আর দক্ষিণ আফ্রিকার ‘স্পেশালিস্ট কনসালটেন্ট’ হলেন অ্যালবি মর্কেল। একদা দেশের হয়ে নিজেকে নিংড়ে দেওয়া দুই ভাই এখন আর সহযোদ্ধা নন, বরং প্রতিপক্ষ। দক্ষিণ আফ্রিকার আর এক প্রাক্তন খেলোয়াড়, শন পোলক এই ম্যাচের জন্য দুই ভারতীয় ক্রিকেটারকে আলাদা করে বেছেছেন। তাঁরা হলেন যশপ্রীত বুমরাহ ও বরুণ চক্রবর্তী। পোলকের মতে, ‘দুই দলেই একে অন্যকে টেক্কা দেওয়ার মতো ক্রিকেটারের অভাব নেই। কুইন্টন ডি’কক যেমন ঝড় তুলতে পারে। আইডেন মার্করামেরও সেই ক্ষমতা রয়েছে। ভারতের আবার অভিষেক শর্মা আছে। তবে আমার মতে এই ম্যাচে তফাত গড়তে পারে বুমরাহ ও বরুণ। ওরা ভিন্ন ধরনের বোলার। বুমরাহ যেমন একেবারেই আন-অর্থোডক্স। নতুন বলে পাওয়ারপ্লে-তে অসাধারণ। আবার ডেথ বোলিংয়েও বিধ্বংসী। মিডল ওভারে রয়েছে বরুণ। বাঁ-হাতি বা ডান-হাতি যে-ই ক্রিজে থাক, ওকে ধরা মুশকিল।’