ম্যাঞ্চেস্টার: ভাঙা পায়ে ঋষভ পন্থের সাহসী ব্যাটিং, শার্দূল ঠাকুরের চোয়ালচাপা লড়াই! একটা সময় মনে হচ্ছিল, ম্যাঞ্চেস্টারে চালকের আসন নেবে ভারত। সাড়ে তিনশোর উপর রান তুলেও বোলারদের ব্যর্থতায় ব্যাকফুটে গিল-বাহিনী। যাবতীয় অ্যাডভান্টেজ ভেসে গেল আরওয়েল নদীতে। চতুর্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভারতের ৩৫৮ রানের জবাবে বাজবলে রানের বন্যা বইয়ে দিলেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার। দ্বিতীয় দিনের শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দু’উইকেটে ২২৫। এরমধ্যে ওপেনিং জুটিতে উঠল ১৬৬ রান! জাদেজার বলে ব্যক্তিগত ৮৪ রানের মাথায় ফেরেন জ্যাক ক্রলি। তবে আরও এক শতরানের দিকে এগতে থাকেন বেন ডাকেট। তবে সেঞ্চুরির থেকে মাত্র ৬ রানে দবরে থামতে হয় তাঁকেও। অভিষেক ম্যাচে উইকেটের খাতা খোলেন কম্বোজ। প্রথম ইনিংসে আর ১৩৩ রানে এগিয়ে ভারত। ক্রিজে রয়েছেন ওলি পোপ (২০) ও জো রুট (১১)।
৩৫৮ রান করতে ভারত নিয়েছে ১১৪.১ ওভার। সেখানে ২৮.৪ ওভারেই দেড়শোর গণ্ডি টপকায় ইংল্যান্ড। এই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট ভারতীয় বোলিংয়ের কঙ্কালসার চেহারা। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে সিরাজ-কম্বোজদের স্কুল স্তরে নামিয়ে আনলেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার। আকাশদীপের বদলি হিসেবে সুযোগ পাওয়া অংশুল কম্বোজ চূড়ান্ত ব্যর্থ। শুরু থেকে একের পর এক লুজ ডেলিভারিতে ইংল্যান্ড ব্যাটারদের জমে ওঠার পথ খুলে দেন হরিয়ানার তরুণ পেসার। অথচ ম্যাচের আগে কম্বোজকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো হাইপ তৈরি হয়েছিল। রবিচন্দ্রন অশ্বিন পর্যন্ত তাঁর স্তুতি গেয়েছিলেন। কিন্তু এদিনের পারফরম্যান্সের পর মনে হচ্ছে, ‘ফাঁকা কলসি আওয়াজ বেশি।’ ঘরোয়া ক্রিকেট আর আন্তর্জাতিক মঞ্চের কতটা ফারাক তা নিশ্চয়ই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তিনি। শুরু থেকেই আনকোরা কম্বোজকে টার্গেট করেন ইংলিশ ব্যাটাররা। এই সিরিজে খেলা না খেলা নিয়ে লুকোচুরিতে ব্যস্ত বুমরাহও দায় এড়াতে পারেন না। শুরু থেকেই ছন্দহীন দেখিয়েছে দলের সেরা বোলারকে। সিরাজের অবস্থাও তথৈবচ। অগত্যা ২৬ ওভারেই স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজার হাতে বল তুলে দিতে বাধ্য হন ক্যাপ্টেন গিল।
বোলাররা হতাশ করলেও ভারতীয় ব্যাটারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। বিশেষ করে ঋষভ পন্থের। বুধবার ওকসের বলে পায়ের পাতায় গুরুতর চোট পেয়ে মোবাইল অ্যাম্বুলেন্সে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। পায়ে চিড় ধরেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই খবর, ছ’সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে। কিন্তু শার্দূল ঠাকুর আউট হওয়ার পর সকলকে চমকে দিয়ে ভাঙা পা নিয়েই মাঠে নেমে পড়লেন পন্থ। অর্ধশতরানও হাঁকালেন। সেই সুবাদেই ভারতের স্কোরবোর্ড সাড়ে তিনশো টপকায়। প্রশংসা করতে হবে শার্দূল ঠাকুরেরও। কঠিন সময়ে ৮৮ বলে ৪১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি। ওয়াশিংটন সুন্দরের সংগ্রহ ৯০ বলে ২৭। উল্টোদিকে, বেন স্টোকস আরও একবার ইংল্যান্ডকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন। ৮ বছরে প্রথমবার পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি। তাঁর আগুনে পেসেই ভারতের চারশো রান তোলার আশা শেষ।
স্কোরবোর্ড: প্রথম ইনিংসে ভারত ( ৪ উইকেটে ২৩৫ থেকে)- জাদেজা ক ব্রুক বো আর্চার ২০, শার্দূল ক ডাকেট বো স্টোকস ৪১, সুন্দর ক ওকস বো স্টোকস ২৭, কম্বোজ ক স্মিথ বো স্টোকস ০, বুমরাহ ক স্মিথ বো আর্চার ৪, সিরাজ নট আউট ৫, অতিরিক্ত ৩০, মোট ১১৪.১ ওভারে ১০ উইকেটে ৩৫৮। উইকেট পতন: ৫-২৬৬, ৬-৩১৪, ৭-৩৩৭, ৮-৩৩৭, ৯-৩৪৯, ১০-৩৫৮। বোলিং: ওকস ২৩-৫-৬৬-১, আর্চার ২৬.১-৩-৭৩-৩, কার্স ২১-১-৭১-০, স্টোকস ২৪-৩-৭২-৫, ডসন ১৫-০-৪৫-১, রুট ৫-০-১৯-০।
প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড: ক্রলি ক রাহুল বো জাদেজা ৮৪, ডাকেট ক জুরেল বো কম্বোজ ৯৪, পোপ ব্যাটিং ২০, রুট ব্যাটিং ১১, অতিরিক্ত ১৬, মোট ৪৬ ওভারে ২ উইকেটে ২২৫। উইকেট পতন: ১-১৬৬, ২-১৯৭। বোলিং: বুমরাহ ১৩-৪-৩৭-০, কম্বোজ ১০-১-৪৮-১, সিরাজ ১০-০-৫৮-০, শার্দূল ৫-০-৩৫-০, জাদেজা ৮-০-৩৭-১।