


সৌরাংশু দেবনাথ, আমেদাবাদ: চোখে রোদচশমা, কানে ইয়ারফোন! টিমবাস যে কখন মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছেছে বুঝতেই পারেননি সূর্যকুমার যাদব। কে জানে, কাপজয়ের সুখস্বপ্নে হয়তো বিভোর ছিলেন!
কোচ গৌতম গম্ভীর বোর্ডিং পাস হাতে কাউন্টারের দিকে এগতেই পিছন থেকে ডাক হার্দিক পান্ডিয়ার। সঙ্গে বান্ধবী। তারকা অলরাউন্ডারের মন্তব্যে তিনজনের মুখেই ফুটল হাসি। পাশেই তখন দাঁড়িয়ে যশপ্রীত বুমরাহ, যাঁর নিখুঁত নিশানার ইয়র্কার ছাড়া এই ‘ফিল গুড’ আবহটাই উধাও থাকত। দেশজুড়ে চলত ‘ম্যাচ কা মুজরিম’ বেছে নেওয়ার তোড়জোড়। আর সেই তালিকায় অভিষেক, বরুণের নাম থাকত অবধারিতভাবে।
রবিবার ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি টিম ইন্ডিয়া। টি-২০ বিশ্বকাপে কোনও দল পরপর দু’বার চ্যাম্পিয়ন হয়নি। সেই ট্র্যাডিশন ভাঙার তাগিদ সঙ্গী ভারতের। হতশ্রী বোলিং নিয়েও কার্যত তিনটি নক-আউট ম্যাচে এসেছে জয়। এবার হাতছানি প্রথম দল হিসেবে টি-২০ বিশ্বকাপে পর পর দু’বার খেতাব জয়ের ইতিহাস গড়ার। আমেদাবাদ জুড়ে তাই বিরল কীর্তির সাক্ষী হওয়ার প্রবল উদ্দীপনা, উন্মাদনা। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দরে সূর্য ও স্যান্টনারের মুখোমুখি ছবিতে টক্করের ইঙ্গিত। ‘ডিপারচার’ দিয়ে বেরবেন তো দু’পাশে নজর কাড়বে ব্যাট-বল ও ট্রফির ছবি দেওয়া ফ্লেক্স। মাথার উপর এগুলোই আবার ঝুলন্ত এবং লাইটিংয়ে ঝলমলে। হোটেলের ম্যানেজার থেকে শুরু করে উবের ড্রাইভার, যাঁর সঙ্গেই কথা হবে, তাঁরই একসুর। টিকিট মিলেগা? চর্চা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন কিনা, তা নিয়ে। ২০২৩ ওডিআই ফাইনালে তাঁর উপস্থিতিতেই রোহিতদের স্বপ্ন চুরমার হয়েছিল যে! দিন কয়েক আগেও সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৭৬ রানে পরাজয়ের সাক্ষী মোদির নামাঙ্কিত স্টেডিয়াম। আরও একবার তেমন চিত্রনাট্যই অপেক্ষা করছে না তো? দুরুদুরু আশঙ্কা অগ্রাহ্য করার উপায় নেই। মোতেরা মানেই যে উদ্বেগ!
সঞ্জু স্যামসন আবার প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলবেন। বাড়তি রোমাঞ্চ সঙ্গী তাঁর। রয়েছেনও গনগনে মেজাজে। শরীরী ভাষায় ঝরে পড়ছে আত্মবিশ্বাস। রসিকতা করছেন মিডিয়ার সঙ্গে। কিন্তু যতই তিনি ফুরফুরে থাকুন, অবিশ্বাস্য ক্যাচ নেওয়া অক্ষরের সঙ্গী হোক ঘরের মাঠে নামার ছটফটানি, অতিথিবৎসল বোলিংই রক্তচাপ বাড়াচ্ছে। নিউজিল্যান্ড কিন্তু সেমি-ফাইনালে হেলায় উড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। তবে যে প্রবল উৎসাহে কপালে তিলক কেটে, গলায় উত্তরীয় পরিয়ে, ফুল ছুড়ে অর্শদীপদের বরণ চলল আমেদাবাদে, তাতে উৎসবের মেজাজ স্পষ্ট। এবার কাপ আসছেই, জ্বলন্ত বিশ্বাস শহরবাসীর। এপাশের প্রাচীনপন্থী ঐতিহ্য থেকে সবরমতীর ওপারের ‘ব্র্যান্ড নিউ’ আধুনিকতা, উভয় আমেদাবাদই সূর্যর হাতে কাপ দেখছে। একবার তাল কেটে গিয়েছে তো কী, এবার রাঙিয়ে দেওয়ার পালা!